আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিতে হাতাহাতি

কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিতে হাতাহাতি

ফন্ট সাইজ:

জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের জামিন শুনানিতে আদালতে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন আইনজীবীরা। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে এ হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যে এজলাস ছাড়েন বিচারক। পরে রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী দু’পক্ষকে শান্ত হতে বলেন। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামি আখতারুজ্জামানও দুই হাত জোড় করে দু’পক্ষকে থামতে বলেন। এরপর পরিবেশ শান্ত হলে বিচারক এজলাসে আসেন। শুনানিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আখতারুজ্জামান ভাঙা গলায় বলেন, আমি অসুস্থ। আমার পক্ষে ১০ জন আইনজীবীকে শুনানি করার অনুমতি দিন।

শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আখতারুজ্জামানের অসুস্থতা বিবেচনায় জামিন চান। তখন রাষ্ট্রপক্ষ জোরালোভাবে বিরোধিতা করে তাকে কারাগারে পাঠানোর জোর আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় আসামিপক্ষে জামায়াতপন্থি আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ ৩০ জনের অধিক আইনজীবী হাজির হন। অন্যদিকে বিএনপিপন্থি ৪০-এর অধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
এদিন একদিনের রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর তার অনুপস্থিতিতে আদালতে শুনানি হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

গতকাল আদালতে উঠার আগে রাগে নিজের মাথায় থাকা হেলমেট ছুড়ে ফেলে দিয়ে আখতারুজ্জামানকে বলতে দেখা যায়, সরকারের অবৈধ অর্ডার মানি না। এ সময় পুলিশ সদস্যদেরও ধমকাতে দেখা যায় তাকে। বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের হুমকির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। গত ১লা অক্টোবর বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না আসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে হুমকি-ধমকির পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে আখতারুজ্জামানের নামে মামলা করা হয়।