উত্থান-পতন থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এজি আকবর। তিনি বলেছেন, সাময়িক ঝড় বা মেঘ কোনোটাই দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিকে নষ্ট করতে পারবে না। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) কর্তৃক আয়োজিত ‘বে-অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এজি আকবর বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই সভ্যতাভিত্তিক রাষ্ট্র। বাংলাদেশের ভিত্তি ভাষা ও ভাষার শক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। দুই দেশের সম্পর্কে উত্থান-পতন থাকবে। তবে এসব সাময়িক বিষয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না।
দুই দেশের বিভিন্ন প্রশ্ন কীভাবে দেখা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
তার মতে, সম্পর্কের বিষয়গুলো শুধু কী সম্ভব, সেই দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না। বরং কেন সম্ভব নয়, সেই প্রশ্নও সামনে আনতে হবে। তিনি বলেন, দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রবিন্দু কী সম্ভব থেকে কেন সম্ভব নয়-এ পরিবর্তন করা দরকার। এতে দুই দেশের মধ্যে আরও অনেক সম্ভাবনার পথ খুলে যেতে পারে।
এজি আকবর একই অনুষ্ঠানে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তার মতে, ভবিষ্যতের সংঘাত ও নিরাপত্তা সমীকরণে সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভারত এ কারণে ভারত মহাসাগরে নিজের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে সমুদ্র নিরাপত্তায় কি প্রভাব পড়ছে তা তুলে ধরেন ভারতের এই প্রবীণ কূটনীতিক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত নিজের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতির গুরুত্ব বাড়ছে। মালাক্কা প্রণালিতে ভারতের ভূমিকা, নৌবাহিনী শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে ভারত তার সমুদ্রভিত্তিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
ভারত-চীন সম্পর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এজি আকবর। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করার চেষ্টা না করে মতপার্থক্য মেনে নিয়ে অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার নীতি কার্যকর হতে পারে। দুই দেশের বাণিজ্যও এ সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানান তিনি।
