রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের সামনে দিনদুপুরে পাথর নিক্ষেপ করে নির্মমভাবে খুন হওয়া মো. সোহাগ (লাল চাঁদ) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মহিনকে হাইকোর্ট কর্তৃক জামিন নর হাইকোর্টের দেয়া ছয় মাসের জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে আপাতত কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না মহিন। রোববার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন। এদিন সম্পূরক কার্যতালিকা তৈরি করে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এর আগে মামলার ১ নম্বর আসামির জামিন পাওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ ও তাদের আইনজীবী। রবিবার সুপ্রিম কোর্টের এ্যানেক্স ভবনের সামনে তারা সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন। জামিন প্রদানের কারণে ক্ষোভ ও চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা প্রকাশ করেছে ভিকটিম পরিবার। জামিনের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে নিহত সোহাগের পরিবার মন্তব্য করেছে-‘আসামিদের জামিন দিয়ে আমাদের সবাইকে সেফ কাস্টডিতে নেয়া হোক, যেন সেখানে অন্তত আমরা নিরাপদ থাকতে পারি’।
গত বছরের ৯ জুলাই মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে প্রকাশ্যে পাথর মেরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় সোহাগকে। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শেষে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। বর্তমানে মামলাটির বিচারকাজ চলছে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, ২১ জন আসামির মধ্যে আটজন এখনও পলাতক রয়েছে। মামলার ২ নম্বর আসামি টিটুসহ পলাতকদের এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে গত ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বরের দিকে তারা জানতে পারেন যে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও ১ নম্বর আসামি মাহমুদুল হাসান মহিনকে হাইকোর্ট জামিন প্রদান করেছেন। পরিবারটির দাবি, বিষয়টি অত্যন্ত গোপনে সংঘটিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রপক্ষের শীর্ষ আইন কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি অবগত করা হয়নি। তারা অভিযোগ করেন, আর্থিক লেনদেন ও অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে চিহ্নিত এই আসামিকে জামিনে বের হওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
জামিনের খবরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নিহতের স্বজনরা। পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, এমন নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি যদি জামিন পেয়ে যায়, তবে ভিকটিম পরিবারের বেঁচে থাকার কোনো নিরাপত্তা থাকে না। তারা পুরো ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানান।
এদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, মামলাটি তৎকালীন সময়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তির প্রতিশ্রুতি থাকলেও বর্তমানে তা ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত প্রথম আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় মোট ২০ থেকে ২২ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদীসহ প্রায় ৬-৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে আসামিপক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানোয় সাধারণ সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত হতে আতঙ্কিত বোধ করছেন। এছাড়া বাদীপক্ষের এজাহারকারী মঞ্জুরা বেগমের স্বামীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আইনজীবী আরও জানান, ভিডিও ফুটেজসহ তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা সুস্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালীন আসামিদের জামিন পাওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
