২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ম্যানচেস্টার সিটির জ্যেষ্ঠ একজন কর্মকর্তার কাছে আসা এক ‘আপাতনিরীহ ইমেইল’ থেকেই শুরু হয়েছিল ঘটনাটি। ইমেইলটি দেখে মনে হয়েছিল, ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার এক কর্মী এটি পাঠিয়েছেন। এতে ছিল আর্থিক বিধি মেনে চলার একটি প্রতিবেদনের লিংক। তবে ওই কর্মকর্তা লিংকে ক্লিক করে সেটি ডাউনলোড করতেই ঘটে বিপত্তি।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমেইলটি আসলে উয়েফার ছিল না। পর্তুগিজ হ্যাকার ও অ্যাক্টিভিস্ট রুই পিন্টোর চালানো ‘ফিশিং’ হামলার মাধ্যমে সিটির সার্ভারে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর ইংলিশ ক্লাবটির সিস্টেম থেকে হাজার হাজার ইমেইল ও নথি সংগ্রহ করেন পিন্টো।
ওই তথ্যের ভিত্তিতেই শুরু হয় সিটির আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘ আইনি ও আর্থিক তদন্ত।
অভিযোগ ছিল, উয়েফা এবং পরে প্রিমিয়ার লীগের আর্থিক বিধি এড়াতে সিটি পরিকল্পিতভাবে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করেছে। ২০২০ সালে উয়েফার বিচারিক বোর্ড সিটিকে দুই বছরের জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করলেও সিএএসে আপিলের পর সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল হয়।
তবে প্রিমিয়ার লীগের তদন্ত চলতেই থাকে। প্রায় ১০ বছর পর সেই তদন্তে স্বাধীন একটি প্যানেল সিটির বিরুদ্ধে আনা প্রায় সব অভিযোগে ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
প্যানেলের মতে, সিটি ৮৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি গোপন অর্থায়ন করেছে। পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে একটি ‘ভুয়া’ ইমেজ রাইটস চুক্তি এবং কর্মীদের চুক্তির প্রকৃত আর্থিক পরিমাণ গোপন করার অভিযোগেও ক্লাবটি দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা না করার কয়েকটি অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।
প্রিমিয়ার লীগের দাবি, সিটি নয় বছরে বাণিজ্যিক আয় হিসেবে ৯৫০ মিলিয়ন পাউন্ড দেখালেও এর মাত্র ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড সত্যিকার অর্থে স্পনসরদের কাছ থেকে এসেছে। বাকি ৮৩০ মিলিয়ন পাউন্ড মালিকপক্ষের কাছ থেকে স্পনসরদের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে ক্লাবে প্রবেশ করানো হয়েছিল।
রায়ে ২০১২-১৩ মৌসুমে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের বোনাসের অর্থ জোগাতে স্পনসর চুক্তি পরিবর্তনের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। আর ২০১৭-১৮ মৌসুমে প্রায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের পিএসআর সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগও করেছে প্রিমিয়ার লীগ।
এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাবটির দাবি, রায়ে আইন, নীতি ও তথ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুল রয়েছে। এনিয়ে শুক্রবার সিটি জানায়, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। সামনে শাস্তি নির্ধারণের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রায় এক দশক আগে একটি ফিশিং ইমেইল দিয়ে যে তদন্তের সূত্রপাত, তা এখন ম্যানচেস্টার সিটির সম্ভাব্য বড় শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
