সাক্ষীদের হুমকি ও প্রধান আসামির জামিনে বাদীপক্ষের ক্ষোভ

লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যা মামলা

সাক্ষীদের হুমকি ও প্রধান আসামির জামিনে বাদীপক্ষের ক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে নৃশংসভাবে পাথর নিক্ষেপ করে খুন করা লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যা মামলায় সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ১ নম্বর আসামির জামিন পাওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ ও তাদের আইনজীবী। রবিবার সুপ্রিম কোর্টের এ্যানেক্স ভবনের সামনে তারা সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, মামলাটি তৎকালীন সময়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তির প্রতিশ্রুতি থাকলেও বর্তমানে তা ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত প্রথম আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় মোট ২০ থেকে ২২ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদীসহ প্রায় ৬-৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে আসামিপক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানোয় সাধারণ সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত হতে আতঙ্কিত বোধ করছেন। এছাড়া বাদীপক্ষের এজাহারকারী মঞ্জুরা বেগমের স্বামীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

আইনজীবী আরও জানান, ভিডিও ফুটেজসহ তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা সুস্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালীন আসামিদের জামিন পাওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই মিটফোর্ডের সামনে লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মোট ২১ জন আসামির মধ্যে আটজন পলাতক এবং চারজন আগেই জামিন পেয়েছিলেন। সম্প্রতি ৩০ তারিখে তারা জানতে পারেন মামলার ১ নম্বর আসামি মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান মুহিন হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, বিষয়টি অত্যন্ত গোপনে করা হয়েছে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ও প্রাথমিকভাবে বিষয়টি জানত না। তারা অভিযোগ করেন, বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে এমন চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামিকে জামিন দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে জড়িতদের শনাক্তে নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানানো হয় এবং জামিন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্তদের প্রত্যাহারের দাবি তোলেন তারা।
আসামিরা মুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে আসায় বাদীপক্ষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে জানিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার নিশ্চিতে রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।