পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ দুপুর ১টায় সংবাদ সম্মেলন করবে প্রসিকিউশন। রবিবার ট্রাইব্যুনাল-১-এর সামনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
পুনর্গঠনের গত দুই বছরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে সাতটি মামলার রায় এসেছে। এসব রায়ে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড পেয়েছেন ৬৮ জন। তবে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের কারও সাজা এখনো কার্যকর হয়নি। দণ্ডিতদের মধ্যে ৪৭ জনই রয়েছেন পলাতক। আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৩ জনের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র চারজন।
২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধের বিচার শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ঘোষিত সাতটি রায়ে ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনকে যাবজ্জীবন এবং ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একজনের হাজতবাসকে সাজা হিসেবে গণ্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রাজসাক্ষী হওয়ায় ক্ষমা পেয়েছেন একজন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং পুলিশের কয়েকজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনাসহ ক্ষমতাচ্যুত সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি ও দলের শীর্ষ নেতারা ভারতে আশ্রয় নেন।
সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ রায়ের মধ্য দিয়ে পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের সাতটি রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩ জনে।
এদিকে, পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে অভিযোগের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২০০৯ সাল থেকে সংঘটিত গুম ও খুনের ঘটনাগুলোও বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে প্রায় ৬০০টি অভিযোগ জমা রয়েছে। সাতটি মামলার রায় হলেও ৭০টির বেশি মামলা বিচারাধীন। এসব মামলার অনেকগুলোতেই চলছে সাক্ষ্যগ্রহণ।
এর আগে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ওই ট্রাইব্যুনালে মোট ৫৬টি মামলার রায়ে ১৯৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। খালাস পান দুজন। এসব রায়ের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অন্যদিকে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৭৫ জন আসামি কারাগারে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন। বাকিদের সাজা কার্যকরের প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।
