জাতীয় ক্রিকেট লীগের (এনসিএল) ২৮তম আসরের উদ্বোধনী দিনে দাপট ব্যাটারদের। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি পাননি খুলনার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ও মিডল অর্ডার ব্যাটার কালাম সিদ্দিকী। এর আগে গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি পরিচালকদের উপস্থিতিতে টুর্নামেন্টের পর্দা ওঠে। এবারের আসরে প্রতিটি দলকে নিজস্ব লোগো সংবলিত আন্তর্জাতিক মানের হেলমেট ও টেস্ট ঐতিহ্যের ব্যাগি ক্যাপ দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড হয়। নতুন ঢংয়ের এনসিএলে আট অধিনায়ক আলাদা রঙের স্যুট পড়ে টস করেন। মিরপুর শেষে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুরের বিপক্ষে টস জিতে বোলিং নেন ঢাকা অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। প্রথম দিনশেষে ৬ উইকেটে ২২৯ রানে করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুর। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে মিম মোসাদ্দেক ও অনিক সরকারের ১১৪ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু পায় তারা।
তবে দুজন ফেরার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় রংপুর। মিম ৬৩ ও অনিক ৫০ রান করেন। অধিনায়ক আকবর আলী (২৬), আব্দুল্লাহ আল মামুন (২২) ও মাহমুদুল হাসান (১৯) বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ৩৮ ও আলাউদ্দিন বাবু ৫ রানে অপরাজিত। ঢাকার এনামুল হক ১২ ওভারে ৩৩ রানে নেন ২ উইকেট। বরিশাল বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বরিশালের বিপক্ষে প্রথম দিন শেষে ৫ উইকেটে ৩২৮ রান করে তুলে খুলনা। টস জিতে ব্যাট করতে নামা খুলনা অল্পরানে দুই ওপেনারকে হারায়। এনামুল হক বিজয় (১৬) ও আজিজুল হাকিম তামিম (৩১) রান করে বিদায় নেন। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর কালাম সিদ্দিকী ও অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের তৃতীয় উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় খুলনা। যদিও দুজনেই সেঞ্চুরি কাছে গিয়ে সাজঘরে ফেরেন। মিঠুন ৮৯ ও কালাম ৯২ রানে আউট হন। পরে আফিফ হোসেন ধ্রুবর অপরাজিত ৪৪ ও কাজী নুরুল হাসান সোহানের ৪৭ রানে ভর করে বড় সংগ্রহ পায় খুলনা। বরিশালের রুয়েল মিয়া নেন ৩ উইকেট। বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক চট্টগ্রামের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিং নেয় রাজশাহী। ওপেনার হাবিবুর রহমান ও সাব্বির হোসেনের ১২৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে উড়ন্ত শুরু পায় তারা। সাব্বির ৭১ ও হাবিবুর ৭৫ রান করে ফেরার পর রানের গতি কমে আসে।
তবে নাঈম আহমেদের ৪৫ ও সাব্বির রহমান রুমানের ৩৫ রানে ভর করে দিনশেষে ৬ উইকেটে ২৯০ রান তোলে রাজশাহী। চট্টগ্রামের হাসান মুরাদ ও এনামুল হক আশিক নেন দুটি করে উইকেট। আরেক ম্যাচে স্বাগতিক সিলেটের বিপক্ষে ময়মনসিংহ ৭ উইকেটে ২৭৩ রান করে। ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন ৭০ রানে এলবিডব্লুর শিকার হন। আব্দুল মজিদও করেন ৭০ রান, আল আমিন জুনিয়রের ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান। আবু হায়দার রনি ৪৬ রানে অপরাজিত আছেন। আফগানিস্তান টেস্ট সিরিজ ও একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাসের মতো তারকাদের ছাড়াই মাঠে নেমেছে এনসিএলের আট বিভাগীয় দল। এবারের আসরে সাত রাউন্ডে হবে মোট ২৮ ম্যাচ, প্রতিটি দল খেলবে সাতটি করে। শীর্ষ দল হবে চ্যাম্পিয়ন।
