বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডি-থ্রি ট্রফিতে চারটি দলের স্বত্বাধিকারী হিসেবে চারজন পরিচালকের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। ঘরোয়া টুর্নামেন্টে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বিসিবি জানিয়েছে এতে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছে না। এই বিষয়ে বিসিবি মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান আসিফ রব্বানী বলেন, ‘যেকোনো বৃহৎ কাজের ক্ষেত্রে যৌক্তিক সমালোচনাকে আমরা সবসময়ই স্বাগত জানাই। আগে যেখানে ক্রিকেট বোর্ডে অর্থ বিনিয়োগ বা পৃষ্ঠপোষকতার অভাব দেখা যেতো, সেখানে আজ বোর্ডের পরিচালকরা নিজেরাই ব্যক্তিগতভাবে ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেটে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছেন, এটিকে ক্রিকেটের জন্য একটি ইতিবাচক কন্ট্রিবিউশন হিসেবেই দেখা উচিত।
তবে স্বার্থের সংঘাত যেন না ঘটে এবং টুর্নামেন্টে যেন সবার জন্য সমান সুযোগ লেভেল প্লেইং ফিল্ড বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতে আমাদের টুর্নামেন্ট কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। একটি পূর্ণাঙ্গ অডিট ও লিগ্যাল প্রসেস এবং টেকনিক্যাল ইভালুয়েশনের মাধ্যমে শতভাগ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দলগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরিচালকরা নিজ নিজ দলের মালিকানায় থাকলেও টুর্নামেন্টের মাঠের পরিচালনায় বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের কোনো অনুচিত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রাখা হয়নি।’
ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল নিয়ে আয়োজিত আসর ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে এবং ৩০শে ডিসেম্বর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আসিফ রব্বানী বলেন, “প্রথমত স্পষ্ট করে বলতে চাই, ‘ডি-থ্রি’ কখনোই বিপিএলের বিকল্প বা বদলি টুর্নামেন্ট নয়। বিপিএল যদি সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যেতো, তবেই এটিকে বিকল্প বলা যেতো। আমরা স্পষ্ট জানিয়েছি যে বিপিএল স্থগিত করা হয়েছে এবং একটি উপযুক্ত সময়ে আমরা তা নতুন আঙ্গিকে আয়োজন করবো।’ বোর্ডের বাণিজ্যিক খাত সম্প্রসারিত হয়েছে। পূর্বের ১৫ থেকে ১৬টি ক্ষেত্র থেকে আয়ের উৎস বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৮৫ থেকে ৯০টিতে। ব্যাংকের গচ্ছিত অর্থ ব্যবহারের নিয়ম প্রসঙ্গে আসিফ রব্বানী বলেন, ‘সঞ্চিত মূলধন ভেঙে খরচ করার নীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো বিসিবির বাৎসরিক আয় বৃদ্ধি করা, যাতে পরিচালন ব্যয় মিটিয়েও বছর শেষে নেট আর্নিং ইতিবাচক থাকে।’
অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে পূর্বাচলে বিসিবির নিজস্ব অর্থায়নে সেন্টার অফ এক্সিলেন্স গড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি অর্থ বরাদ্দ প্রদান করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বোর্ডের গচ্ছিত মূলধন অক্ষত রেখে বাৎসরিক আয় থেকে পরিচালন ব্যয় নির্বাহের নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।
বগুড়া স্টেডিয়াম নিয়ে নতুন আশা
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। দীর্ঘ ১৮ বছর পরিচর্যার অভাবে মাঠটির কাঠামোগত ক্ষতি সাধিত হয়েছে। স্টেডিয়ামের পরিস্থিতি নিয়ে আসিফ রব্বানী বলেন, ‘বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ভেন্যু এবং দেশের অন্যতম সেরা উইকেট হিসেবে স্বীকৃত ছিল। ফিজিক্যাল কনস্ট্রাকশনের কাজ শুরু হলে বছরখানেকের মধ্যে মাঠের ড্রেনেজ ও সংস্কার কাজ অনেকাংশে শেষ করা সম্ভব হবে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বগুড়ায় ডি-থ্রি বা ঘরোয়া ক্রিকেটের বড় টুর্নামেন্টগুলো আয়োজন করবো। পাশাপাশি আইসিসির প্রয়োজনীয় পরিদর্শন সম্পন্ন করে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফিরিয়ে আনা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
