ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর অচেতন ক্রিস্টা পাইক ভেন্টিলেটরে

ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর অচেতন ক্রিস্টা পাইক ভেন্টিলেটরে

ফন্ট সাইজ:

মৃত্যুদণ্ড থেকে ‘দ্বিতীয় জীবন’ পাওয়া ক্রিস্টা পাইক অচেতন অবস্থায় আছেন। তাকে রাখা হয়েছে ভেন্টিলেটরে। এ কথা জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। তবে তিনি সুস্থ হলে আবারও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে কিনা তা পরিষ্কার হয়নি। এরই মধ্যে আইনজীবীরা তার শাস্তি লাঘব করার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে আদালতে দেয়া নথিতে পাইকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি অচেতন। তার শ্বাসনালিতে টিউব ঢোকানো হয়েছে। ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে তাকে শ্বাস নিতে সহায়তা করা হচ্ছে। ৫০ বছর বয়সী পাইককে বুধবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে দুটি প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়া হয়। কিন্তু তাতেও তিনি মারা যাননি। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, পাইক এখনও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন এবং ন্যাশভিল এলাকার একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

১৯৯৬ সালে কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর তার সাজা কমিয়ে দেয়ার আবেদন করছেন আইনজীবীরা। শুক্রবার পাইকের আইনজীবীরা জরুরি আবেদন করে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘যেকোনো এবং সব ধরনের প্রমাণ’ সংরক্ষণের নির্দেশ চেয়েছেন। আদালতে দেয়া নথিতে বলা হয়েছে, হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তার শরীর থেকে ব্যবহৃত ওষুধটি বের করে দেয়ার চেষ্টা করছেন। আইনজীবীদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পাইকের শরীরে শিরার মাধ্যমে ওষুধ দেয়ার জন্য কারাগারের কর্মকর্তারা অন্তত সাতটি সূঁচ ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে পাইক নিজেই কর্মকর্তাদের কোথায় সূঁচ ঢোকানোর চেষ্টা করা যেতে পারে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেন। আদালতে দেয়া নথিতে বলা হয়েছে, একটি সূঁচ বের করার সময় সেটি ৯০ ডিগ্রি কোণে বেঁকে ছিল।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দুটি ডোজ দেয়ার সময় পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে পাইককে কাঁদতে, কাতরাতে এবং জোরে শ্বাস নিতে শোনা যাচ্ছিল। টেনেসির গভর্নর বিল লি পাইকের ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা তদন্তে একটি স্বাধীন পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে চলতি বছরের জন্য অঙ্গরাজ্যটিতে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন তিনি। তবে অঙ্গরাজ্যের সংশোধন বিভাগ তাদের ব্যবহৃত পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছে, প্রোটোকল অনুযায়ী যা করা হয়েছে, এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো প্রক্রিয়ার অনুমতি নেই। পাইককে আবার মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি। কী কারণে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ব্যর্থ হয়েছে, সে বিষয়েও তারা কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

এর আগে পাইকের আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেন, তার কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে থ্রম্বোসাইটোসিস বা রক্ত জমাট বাঁধার একটি সমস্যা এবং ছোট শিরা রয়েছে। ফলে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তার ‘অপ্রয়োজনীয়’ ব্যথা ও কষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সর্বশেষ আদালতে দেয়া নথিতে আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দলের কোনো সদস্যই কোনো পর্যায়ে বুঝতে পারেননি যে শিরায় প্রবেশ করানো আইভি লাইনগুলো সঠিকভাবে স্থাপন করেনি অথবা শিরাগুলো ফেটে গেছে। ফলে বিষাক্ত ওষুধ পুরোপুরি বা আংশিকভাবে পাইকের শরীরে প্রবেশ করছিল। আইনজীবীরা এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব ধরনের শারীরিক, লিখিত ও ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়েছেন।