আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, বিদেশি কোচিং স্টাফ এবং দীর্ঘ প্রস্তুতি— সবকিছুর পরও মাঠে বাংলাদেশের ফুটবলের করুণ চিত্র। আশিয়ান কাপে টানা তিন ম্যাচে হার। বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলের লজ্জাজনক হারের পর এবার আলোচনায় জাতীয় দলের দুই ফুটবলার সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা জুনিয়র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার এক নারীর সঙ্গে তাদের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যার পটভূমি দেখে সেটিকে নাইট ক্লাব বা ডিস্কোর ছবি বলে মনে হচ্ছে।
এলেনা নামের ওই নারী তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি পোস্ট করেছেন। সেখানে বাংলাদেশি দুই ফুটবলার সাদ ও সোহেল রানার সঙ্গে তাকে দেখা যায়। ছবির বিষয়টি অস্বীকার করেননি সাদ ও সোহেল। তবে দুজনই দাবি করেছেন, ছবিটি ইন্দোনেশিয়ার নয়; নেপালে থাকাকালে ওই নারীর সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়েছিল। সোহেল রানা বলেন, ‘মোহামেডানে সাইন করার পর আমরা ফ্রি ছিলাম। জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হওয়ার আগে নেপালে ঘুরতে গিয়েছিলাম। তখন একটি ক্লাবে তার সঙ্গে দেখা ও পরিচয় হয়েছিল। এটি জাকার্তা বা ইন্দোনেশিয়ায় নয়।’
তবে এলেনা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ইন্দোনেশিয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে এইচ ক্লাবে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ দেখতে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, বাংলাদেশকে সমর্থন করে ম্যাচ দেখতে যাওয়া ‘মজার’ ব্যাপার হতো। এ বিষয়ে জাকার্তা থেকে সাদ উদ্দিন বলেন, ‘নেপালে তার সঙ্গে পরিচয়। জাকার্তা আসার পর তাকে খেলা দেখতে আসতে বলেছিলাম, সে আসেনি।’ গতকাল সাদের অনুরোধে নতুন একটি স্ট্যাটাসে ব্যাখ্যা দিয়ে এলেনা লিখেছেন, একটা ব্যাখ্যা দিতে চাই ছবি ও ভিডিও নেপালে দুই মাস আগের। যেখানে পেশাদার ও প্রকৃত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করেছিলাম।’ দুই মাস আগের ছবি বৃহস্পতিবার নতুন করে পোস্ট করার কারণও ব্যাখ্যা দিয়েছেন পরের প্যারায়, ‘আমার পোস্টে কোনো ভুল বোঝাবুঝি হলে দুঃখিত। আমি সাধারণত দেরিতে পোস্ট করি কারণ আমি যখন ভ্রমণ করি তখন উপভোগ করি।’ টুর্নামেন্ট বা জাতীয় দলের কার্যক্রম চলাকালে খেলোয়াড়দের এমন জায়গায় যাওয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২ গোলের বড় হারের পর ছবিটি প্রকাশ্যে আসায় সমালোচনার মাত্রা বেড়েছে। সোহেল রানা অবশ্য বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি ঠিক হয়নি এবং এটিকে তিনি নিজের ভুল হিসেবে দেখছেন। সাদ অবশ্য বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছেন। তার বক্তব্য, ‘একটা বিষয়কে না জেনে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। আগে-পেছনে তথ্য থাকতে পারে। আমাদের পরিবার রয়েছে, ব্যক্তিগত জীবন আছে। ওই সময় ক্লাব কিংবা জাতীয় দলের কোনো খেলা বা ক্যাম্প ছিল না।’ দুজনেরই দাবি, ছবিটি নেপালের। ইন্দোনেশিয়ায় জাতীয় দলের হোটেল থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি ছিল বলেও তারা জানিয়েছেন। তবে ছবিটি ঠিক কোথায় এবং কখন তোলা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা এখন এয়ারপোর্টে ইন্দোনেশিয়া থেকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তখনই শুনতে পেলাম। দেশে ফিরে এ বিষয়ে তদন্ত করবো। প্রাথমিকভাবে জানতে চেয়েছিলাম ওরা বলেছে এটা দুই মাস আগে নেপালের ছবি।
