সিটির বিরুদ্ধে ১১৪টি মামলায় রায়ের পর এফএ’র হুঁশিয়ারি

সিটির বিরুদ্ধে ১১৪টি মামলায় রায়ের পর এফএ’র হুঁশিয়ারি

ফন্ট সাইজ:

ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আসা ঐতিহাসিক রায় এখন আলোচনার তুঙ্গে। ১১৫টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এই রায় কেবল একটি ক্লাবের শাস্তি নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক সততা ও আর্থিক শৃঙ্খলার ভিত্তিমূলে এক বিশাল ধাক্কা বলে মনে করছে ইংলিশ ফুটবল এসোসিয়েশন (এফএ)। প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে তারা।

এফএ’র পক্ষ থেকে শুক্রবার এক বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়, ‘এই রায়ের প্রভাব ফুটবলের সামগ্রিক সততার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করছি।’ অন্যদিকে, বৃটিশ পার্লামেন্টের ট্রেজারি কমিটিও নড়েচড়ে বসেছে। ক্লাবটির সাবেক কোচ রবার্তো মানচিনির বিতর্কিত চুক্তি নিয়ে ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগ ওঠায় ব্রিটিশ রাজস্ব বোর্ড (এইচএমআরসি)-কে কঠোর তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন আইনপ্রণেতারা।
স্বাধীন কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুমের মধ্যে প্রায় ৮৩ কোটি পাউন্ডের গোপন তহবিল আড়াল করতে ভুয়া চুক্তি বা ‘শাম কন্ট্রাক্ট’ করে ম্যান সিটি। প্রিমিয়ার লীগ ও উয়েফার আর্থিক নিয়মের কড়াকড়ি এড়াতে মালিকপক্ষের বাইরে আবুধাবি সরকারের তহবিল দিয়ে এই বড় অংকের স্পন্সরশিপের অঙ্ক ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়। প্রিমিয়ার লীগ কর্তৃপক্ষের মতে, ক্লাবটি ‘প্রায় এক দশক ধরে সিস্টেমগতভাবে নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।’

তবে শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে সিটি। তারা জানিয়েছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করা হবে। তাদের মূল আইনি যুক্তি হলো, স্পন্সরশিপগুলোর পেছনে সরাসরি আবুধাবি সরকারের সম্পৃক্ততা ছিল, যা প্রিমিয়ার লীগের কাঠামোর মধ্যে বৈধ। এদিকে, সিটির প্রধান জার্সি স্পন্সর ইত্তিহাদ এয়ারওয়েজ প্রিমিয়ার লীগের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়ে বলেছে, ‘প্রতিবেদনে নাম না থাকা সত্ত্বেও আমাদের জড়িয়ে ফেলার ফলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।’ প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোর কর্তারা ইতিমধ্যেই সিটির চলতি মৌসুমেই কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি তুলেছেন। বড় অঙ্কের জরিমানা থেকে শুরু করে পয়েন্ট কাটা বা লীগ থেকে বহিষ্কারের মতো চরম শাস্তিও ঝুলছে সিটিজেনদের মাথার ওপর।