আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে নাটকীয়তার মাঝেই ডেনমার্কের মাঠে শক্তি প্রদর্শন করলো পর্তুগাল। কোপেনহেগেনে পার্কেন স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতে স্বাগতিক ডেনমার্কের বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানে উয়েফা নেশনস লীগে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে পর্তুগিজরা। এই জয়ে ৩ ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ৪’ গ্রুপের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করলো জর্জ জেসুসের শিষ্যরা। ম্যাচের পর পর্তুগালের নতুন কোচ দাবি করেন, রোনালদো জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে গেলেও দলের কোনো বিভাজন তৈরি হয়নি।
কোপেনহেগেনের রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের লড়াই জমে ওঠে। ১৩ মিনিটে জোয়াও কানসেলোর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তবে ১০ মিনিট পরই ডেনমার্কের মিকেল ডামসগার্ড গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। ২৫ মিনিটে কানসেলোর সহায়তায় দারুণ এক গোল করে পর্তুগালকে আবারো লিড এনে দেন এসি মিলান ফরোয়ার্ড গনসালো রামোস।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৫২ মিনিটে রাসমুস হয়লুন্দ ডেনমার্ককে আবার সমতায় ফেরান। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সাবেক ফরোয়ার্ড গোল করার পর রোনালদোর ট্রেডমার্ক ‘সিউউউ’ উদযাপনে মেতে ওঠেন। অবশ্য পর্তুগালের জয়ের ধারায় তা বাধা হতে পারেনি। ৬৭ মিনিটে মিডফিল্ডার ভিতিনহা পর্তুগালকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেনে। শেষ দিকে জোয়াও ফেলিক্সের লক্ষ্যভেদে দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।
নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে বসে থাকার পর জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়েন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম দেশের হয়ে কোনো ম্যাচে পুরোটা সময় বেঞ্চে বসে কাটাতে হয় তাকে। রোনালদোর জায়গায় একাদশে টানা সুযোগ পেয়ে গোল করা রামোস বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা এখন আগের চেয়ে অনেক পরিষ্কার। নতুন কোচ জেসুস আমাদের দারুণভাবে সাহায্য করছেন।’
ম্যাচ শেষে ক্যাম্প ছাড়া রোনালদোকে ঘিরে দলে বিভাজনের গুঞ্জন উড়িয়ে দেন পর্তুগাল কোচ জেসুস। তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে, তা দলকে আমার থেকে বা নিজেদের মধ্যে আলাদা করেনি। ডেনমার্কের বিপক্ষে এই চার গোলের উচ্চমানের পারফরম্যান্সই আসল, যা অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ আগামী সোমবার ঘরের মাঠে নেশনস লীগের পরবর্তী ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।
