স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল আবার এক হয়েছে

স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল আবার এক হয়েছে

ফন্ট সাইজ:

উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল আবার এক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বললেন, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশে বিশৃঙ্খলা রোধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র সৃষ্টির পাঁয়তারায় জড়িতদের কঠোর জবাব দিতে জনগণের প্রতি আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল এক দফা এক দফা করে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আসলে তারা কী চায় জনগণও স্পষ্ট নন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ এর ৫ই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে যারা পালিয়ে গেছে এবং যারা এক দফা বলে বুলি ছুড়ছেন তাদের কাছে প্রশ্ন— আপনারা দেশের উন্নয়ন চান কিনা? তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়, আপনারা কী চান তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করুন।

গতকাল বিকালে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে তিন মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সমাজকল্যাণ, কৃষি ও ধর্ম মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে একটি দল বেহেশতের টিকিট বিক্রি করেছিল। অথচ বেহেশত ও দোজখের মালিক কেবল মাত্র এক আল্লাহ্। তিনি উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চান, এসব যারা করেছে তারা কি শিরক ও মুনাফেকি করেনি। বিগত ১৭ বছর বিএনপি’র কয়েক হাজার নেতাকর্মী মামলা-হামলা ও গুমের শিকার হয়েছে। জামায়াত তখন কোথায় ছিল— এ প্রশ্নও করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, জামায়াত ’৭১ এর ভূমিকায় ফিরে গেছে। মনে রাখতে হবে মানুষ জীবন ও ইজ্জত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে।
১৭ বছর দেশে গণতন্ত্রের চর্চা না থাকায় উন্নয়নের চাকা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন চাইলে ষড়যন্ত্র নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি যখনই রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে দেশ ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সময় এগিয়ে যাওয়ার। সেজন্য অনুকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতি জরুরি। কেউ যাতে অযথা পরিবেশ ঘোলাটে করতে না পারে এ নিয়েও জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফেনীতে এসে আমি উৎফুল্ল। নিজের বাড়ি মনে হচ্ছে। বলেন আমার মা নেই, বাবাও নেই। ফেনী আমার মায়ের বাড়ি, সে হিসেবে আমার নানার বাড়ি। মা যেহেতু মারা গেছেন, আপনারাই আমার আপনজন, আপনারাই আমাকে দেখে রাখতে হবে। ফেনীবাসীই আমার অভিভাবক।
বক্তব্যের আগে মঞ্চ থেকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান।

ফেনীতে প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী সফরের শুরুতে দুপুর সোয়া ২টায় পরশুরাম পৌঁছে বহু প্রতীক্ষিত মুহুরী—কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এ সময় নদীপাড়ে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি জনবহুল দেশে রাজনৈতিক দলের দুষ্ট লোকজন কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে আর সেটিকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। তিনি বলেন, এতে দেশের উন্নয়নের ব্যাহত হলে তার দায়ভারও তাদের নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে শুধু দেশই নয়, বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অথচ তারা অন্যদের নসিয়ত করে বেড়াচ্ছে। দেশকে বাঁচাতে হলে ১৯৭১ ও ৮৬ সালে একটি রাজনৈতিক দলের ভূমিকা কী ছিল, তা আবারো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। অরাজকতা ও ষড়যন্ত্রকারীদের কট্টর জবাব দিতে জনগণের প্রতি আহ্বানও জানান তারেক রহমান।
দেশে অনেক রাজনৈতিক দল থাকলেও একমাত্র বিএনপি দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। একইসঙ্গে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিএনপি সরকার গঠন করেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এর ফলে সরকারের দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও দেশের ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

পর্যায়ক্রমে দেশের সব বন্ধ মিল কারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, এসব কল কারখানা চালু হলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনীতির চাকাও সচল হবে। ১৭ বছর স্বৈরাচার সরকার জনগণের কণ্ঠরোধ করে অধিকার বঞ্চিত করেছিল। ১২ই ফেব্রুয়ারি জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সে অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে।
মুহুরী—কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর ফলে নতুন করে ৩৪ হাজার হেক্টর জমি আবাদের আওতায় আসবে। এক লাখ টন ফসল উৎপাদন বাড়বে আশা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, এতে করে শস্য মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যে আসবে।

পরশুরামে কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে প্রতিষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে যান। সেখানে অপেক্ষমাণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান ও আগে বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর নারী শিক্ষার প্রসারে প্রথম যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। ২০০১ সালে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু করে। সে সরকারের সময় দেশ নকলমুক্ত হয়েছিল।

এ সময় শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত মহিলা কলেজটিকে জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে শর্ত জুড়ে দেন, ভালো ও গুণগত ফলাফলের। এসব অনুষ্ঠানে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড জাহিদ হোসেন, কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন এবং সংরক্ষিক নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু উপস্থিত ছিলেন।