সাহসী সিদ্ধান্ত

ফন্ট সাইজ:

সাহসী সিদ্ধান্ত। গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দূরদর্শী এক নির্দেশনা। যাতে রয়েছে পরিবর্তনের সরাসরি ইঙ্গিত। দেশের ইতিহাসে এমন সিদ্ধান্ত এই প্রথম। একজন সিটিং এমপিকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া নজিরবিহীন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কপালে আরেকটি তিলক লাগিয়েছেন। আর এ সিদ্ধান্তে গোটা দেশের মানুষ অবাক। হতবাকও। তারা চিন্তাও করতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশকে চমকে দেবেন। সত্যিই এমন চমক জাগানিয়া সিদ্ধান্তে দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তে দলের নেতাকর্মীদের কাছেও কঠোর বার্তা পৌঁছে গেছে।

গতকাল সকালে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে সংসদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। দুপুর বেলা দুইটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। মিষ্টির পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্পিকার। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে। পদত্যাগপত্রটি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে বলেও জানান স্পিকার। এখন মিষ্টির সংরক্ষিত আসনটি শূন্য।

ঘটনার শুরু ২৪শে সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে। মিরপুরে ‘রাড্ডা মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র’ দখল করার উদ্দেশ্যে গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর, লুটপাটের পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙিয়ে দেয়া হয়। এরপর ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামটি আলোচনায় আসে। ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ। কমিশনার থাকাকালীন ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সভাপতি ছিলেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখল করতে যাওয়া বিএনপি’র স্থানীয় নেতাকর্মী। যারা মিষ্টির ঘনিষ্ঠ। এরপরই গোটা দেশে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে। জনতার কাঠগড়ায় থাকা বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর এমন সাহসী সিদ্ধান্তের পর কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে তিনি দলের চেয়ে দেশকে বুকে ধারণ করেন। দেশের মঙ্গলের জন্য তিনি যেকোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবেন না। তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্ত মনে করিয়ে দেয় ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। যিনি তারেক রহমানের মা। সে সময় রানিং এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু ছিলেন এমপি। তার নানা কর্মকাণ্ডে বিএনপি সরকার তখন সমালোচনার মুখে। খালেদা জিয়াও সময় নেননি। পিন্টুকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। তার বিরুদ্ধে হয় টেন্ডারবাজির মামলা। ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি হলেন এই নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন। এমপি থাকাকালীন একজন হয়েছেন গ্রেপ্তার। আর বোনকে এমপি পদ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করতে হয়। তার শূন্য আসনে বিএনপি নতুন করে কাউকে মনোনয়ন দেবে। কিন্তু সন্ত্রাসের বিপক্ষে মা খালেদা জিয়ার পর পুত্র তারেক রহমানের সাহসী সিদ্ধান্ত যে নজির সৃষ্টি করলো তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অ্যাকশন দলের এমপি থেকে শুরু হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তিনি সন্ত্রাস, দখলবাজি, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এই অ্যাকশন অব্যাহত রাখবেন। অতএব, মেসেজ লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। নেতাকর্মীরা সাবধান।