স্বস্তিতেই তামিমের বোর্ড দাবি আসিফ রব্বানীর

স্বস্তিতেই তামিমের বোর্ড দাবি আসিফ রব্বানীর

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ চার মাস অতিক্রম করেছে। এই স্বল্প সময়েই বিপিএল স্থগিত, নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ‘ডি-থ্রি’ আয়োজন, স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মতো নানা গুঞ্জন নিয়ে বিসিবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে গুঞ্জন। এছাড়া নতুন পরিচালকদের ক্রীড়া ব্যাকগ্রাউন্ড ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। এসব সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সম্প্রতি দৈনিক মানবজমিন-এর মুখোমুখি হয়েন বিসিবি’র মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ রব্বানী। বিসিবি পরিচালনায় নিজেদের স্বস্তি, নীতিগত সিদ্ধান্ত, সমালোচনা এবং দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারটির চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো—
প্রশ্ন: বিসিবিতে চার মাস পার করলেন। এই পথচলায় স্বস্তি নাকি অস্বস্তি অনুভব করছেন?
আসিফ রব্বানী: না, অবশ্যই স্বস্তি। আলহামদুলিল্লাহ, বেশ ভালো আছি। আমাদের সম্মানিত সভাপতি ও বোর্ডের অন্যান্য পরিচালকরা সবাই মিলে ক্রিকেটের সমৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কাজ করলে কিছু আলোচনা-সমালোচনা হবেই; এগুলো মেনেই এগোতে হয়। কাজের মধ্যে থাকার আনন্দ থেকেই মূল স্বস্তিটা অনুভূত হয়। করপোরেট অভিজ্ঞতাকে বিসিবিতে প্রয়োগ করতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।
প্রশ্ন: আচমকা বিসিবিতে আসার পর কাজের যে চাপ, তা কীভাবে সামলাচ্ছেন?
আসিফ রব্বানী: সততার সঙ্গে বলছি, এতটা কাজের চাপ থাকবে তা আগে ভাবিনি। তবে যে দায়িত্বই গ্রহণ করি না কেন, তা সঠিকভাবে পালন করাকেই নিজের কর্তব্য মনে করি। তাছাড়া আমাদের বোর্ড সভাপতি অত্যন্ত কর্মঠ একজন মানুষ। একটি টিম হিসেবে তার কাজের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কাজের একটা চাপ তৈরি হয়।
প্রশ্ন: অনেকে মন্তব্য করেছেন আপনাদের খেলাধুলার বাস্তবিক পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই এবং রাজনৈতিক পরিচয় ও ‘বাবার বোর্ড’ নিয়েও কথা উঠেছে। খেলার জগতের সঙ্গে আপনাদের সম্পৃক্ততা কতটুকু?
আসিফ রব্বানী: খেলাধুলার প্রতি আমাদের নিবিড় ভালোবাসা সবসময়ই ছিল। ব্যক্তিগতভাবে আমি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বগুড়ায় স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। বিপিএলের বিভিন্ন দলের স্পনসরশিপেও আমার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন যুক্ত ছিল। আর রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে আমার যে পরিচয় আছে, সেটির জন্য আমি গর্বিত। তবে আসল বিষয় হলো নিজের অর্পিত দায়িত্ব ও যোগ্যতার প্রমাণ দেয়া। সব সমালোচনার চূড়ান্ত উত্তর কাজের মাধ্যমেই দেয়া শ্রেয়।
প্রশ্ন: বিসিবিতে সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবের মাত্রা আসলে কতটা?
আসিফ রব্বানী: বিগত চার মাসে আমি সে ধরনের কোনো প্রত্যক্ষ প্রভাব অনুভব করিনি। সরকারি পরিকাঠামোয় কাজের স্বার্থে কিছু বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বা পরামর্শ করাটা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়। বিসিবি সবসময়ই সমন্বিতভাবে কাজ করে। তবে কোনো প্রকার ‘হস্তক্ষেপ’ বা চাপ প্রয়োগের মতো ঘটনা আমি অন্তত প্রত্যক্ষ করিনি।
প্রশ্ন: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ডের কিংবা বোর্ড সভাপতির কিছুটা দূরত্ব রয়েছে বলে যে গুঞ্জন, তা কতটুকু সত্যি?

আসিফ রব্বানী: এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই। গত দুই-তিন দিন আগে আমাদের ‘ডি-থ্রি’র ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উনি যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে নেমেই রাতে যোগ দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ভাই নিজে একজন প্রখ্যাত ক্রীড়াবিদ। বিপিএল স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পেছনের যৌক্তিক কারণগুলো অনুধাবন করে উনি আমাদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। বোর্ডের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়।
প্রশ্ন: সাবেক এক বোর্ড সভাপতি মন্তব্য করেছেন— বিসিবিতে সবাই নাকি অর্থ ও পরিচিতির লোভে আসেন। একজন পরিচালক হিসেবে বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন?
আসিফ রব্বানী: বিসিবি পরিচালকদের কোনো বেতন নেই; এটি সম্পূর্ণ অবৈতনিক বা স্বেচ্ছা সেবা। আমি তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক অবক্ষয় ও মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগের পাশাপাশি বিসিবিতে ভূমিকা রাখতে এসেছি। কেবল অর্থ বা খ্যাতির মোহে বোর্ডে আসা হয়েছে— এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
প্রশ্ন: সাম্প্রতিককালে গুঞ্জন উঠেছে যে বিসিবি পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, যাকে অনেকেই ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বলছেন। বিশেষ করে তামিম ইকবাল ও কয়েকজন জুনিয়র পরিচালকের সঙ্গে বয়োজ্যেষ্ঠ বা অভিজ্ঞ পরিচালকদের একটি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে বাজারে জোর আলোচনা রয়েছে। এই বিষয়টির সত্যতা কতটুকু?

আসিফ রব্বানী: এ সব অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন। আমাদের বোর্ড পরিচালকদের মধ্যে অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্য পূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বোর্ডে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বা নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণকালে কোনো একক গোষ্ঠী নয়, বরং প্রতিটি পরিচালককে যুক্ত করা হয়। দৈনন্দিন কাজের সুবিধার জন্য ওয়ার্কিং কমিটি গঠিত হলেও যেকোনো মূল সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বোর্ড সদস্যদের অভিমত নিয়েই বাস্তবায়িত হয়।
প্রশ্ন: কিন্তু সম্প্রতি বিসিবি’র একটি বোর্ড সভায় একাধিক পরিচালকের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও বাকবিতণ্ডার খবর প্রকাশ পায়। সভা কক্ষের ভেতরে আসলে কী ঘটেছিল?
আসিফ রব্বানী: একটি বড় গণতান্ত্রিক বোর্ডে যেখানে বহু অভিজ্ঞ ব্যক্তি একত্রে বসে সিদ্ধান্ত নেন, সেখানে মতের ভিন্নতা বা ডিফারেন্স অফ অপিনিয়ন থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর লক্ষণ। সভার টেবিলে নীতিগত আলোচনা বা বিতর্ক হওয়া মানেই সেটি ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা গণমাধ্যমের মুখরোচক সংবাদ হওয়ার মতো কোনো বড় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নয়। আমরা বিশ্বাস করি, ভিন্নমত থাকবে কিন্তু বোর্ডের সার্বিক ভাবমূর্তি ও সদস্যদের পারস্পরিক সম্মান রক্ষা করে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।