টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টির পর বুধবার নাগোয়ায় রোদের দেখা মিলেছে। গতকাল সকালেও ঝলমলে ছিল নাগোয়ার আকাশ। বৃষ্টি নেই, তবুও মাঠ প্রস্তুত হতে সময় লাগলো। নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা পর মাঠে গড়ালো বাংলাদেশ-পাকিস্তান সেমিফাইনাল। ১৩ ওভারের ম্যাচে স্বপ্ন দেখিয়েও শেষ পর্যন্ত আবারও হতাশার গল্প লিখলেন ক্রিকেটাররা। মোস্তাফিজুর রহমানের দুই ওভারের ব্যর্থতায় পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে সোনার লড়াই থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ। আগামী শনিবার দুপুরে এশিয়ান গেমসের সোনার লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। আর বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে হবে ব্রোঞ্জের ম্যাচ। ২০২৩ সালে হাংঝু এশিয়াডে ভারতের কাছে সেমিফাইনাল হেরেছিল বাংলাদেশ। পরে পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জেতে তারা।
সোনার লড়াইয়ের দোরগোড়ায় গিয়ে থমকে দাঁড়ানোর পরেও খুব একটা হতাশ মনে হয়নি বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাসকে। মুখে হতাশার কথা বললেও তার আচরণ ছিল কিছুটা ঔদ্ধত্যপূর্ণ। মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের সহজ কথারও বাঁকা উত্তর দিচ্ছিলেন লিটন। মনে হচ্ছিল তাকে জোর করে কেউ সেখানে দাঁড় করিয়েছেন। অথচ এই একটি মাত্র ইভেন্টেই সোনার পদকের আশা করে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে নাগোয়ায় এসেছিল পুরুষ ও নারী ক্রিকেট দল। নারীরা হতাশ করেছে আগেই। এবার তারা ব্রোঞ্জও জিততে পারেনি। জ্যোতিদের পারফরমেন্স ছিল যাচ্ছে তাই। সেমিফাইনাল, ব্রোঞ্জ জেতার ম্যাচে খুব বাজে খেলেছে মেয়েরা। ভরসা ছিল লিটনদের ওপর। কিন্তু গতকাল তাদের খেলা দেখে অন্তত সোনা জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত মনে হয়নি। লিটনরা এখানে থামাতে আইচি-নাগোয়ায় আর পদকের রংয়ের কোনো পরিবর্তন হলো না। এখন পর্যন্ত জিন্নাত একটি ব্রোঞ্জ জিতে মেডেল টালিতে বাংলাদেশের নাম উঠিয়েছেন। শনিবার লিটনরা জিতলে সংখ্যাটাই বাড়বে শুধু।
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নাগোয়ার নিশিন সিটির কোরোগি স্পোর্টস পার্কের উইকেট ছিল পুরোপুরি ঢাকা। বুধবার দু’দল মাঠে অনুশীলন করলেও উইকেটে ব্যাট করার সুযোগ পায়নি। ফলে ম্যাচের আগে উইকেটের চরিত্র ছিল অজানা। ম্যাচ শেষে সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। ম্যাচ শেষে এই দুটি কারণকেই অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন লিটন।
এদিন স্লো উইকেটে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দ্রুত ফিরে যান টপ অর্ডারের ব্যাটাররা। তানজিদ তামিম ৭, লিটন কুমার দাস ২ ও পারভেজ হোসেন ইমন ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। একপ্রান্ত আগলে রেখে পাল্টা লড়াই করেন তৌহিদ হৃদয়। তার ২৫ বলে ৪২ রানের ঝোড়ো ইনিংসেই শেষ পর্যন্ত ১৩ ওভারে ১১১ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে সেই লক্ষ্যকে কঠিনই করে তুলেছিলেন। রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী ও নাসুম আহমেদের বোলিংয়ে পাকিস্তানের ব্যাটাররা চাপে পড়ে যান। রান তোলার গতি কমে আসে। একটা সময় মনে হচ্ছিল, ছোট লক্ষ্য হলেও লড়াই জমিয়ে তুলতে পারবে বাংলাদেশ। এক পর্যায়ে ১০-এর ওপর রানরেট চলে যায় পাকিস্তানের। কিন্তু সেই সম্ভাবনার আগুন নিভিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার দুই ওভারেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে যায়। দুই ওভারে ৪১ রান দেন বাঁহাতি এই পেসার। শেষ পর্যন্ত আর কোনো বিপদ হতে দেননি পাকিস্তানের ব্যাটাররা। নির্ধারিত ওভারের আরও ৯ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেট হাতে রেখে ১১২ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় তারা।
পাকিস্তানের আব্দুস সামাদ ১৫ বলে ৩০ ও হাসান নেওয়াজ ২২ বলে অপরাজিত ২৭ রানের ইনিংস খেলে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। বাংলাদেশের রিশাদ, মেহেদি, নাসুম ও মোস্তাফিজ একটি করে উইকেট নেন। এখন সামনে শুধু ব্রোঞ্জের ম্যাচ। সেখানে জয় দিয়ে ফেরাটা হবে একমাত্র সান্ত্বনা। নারী দল ব্রোঞ্জের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হেরে খালি হাতে দেশে ফিরেছে। এর আগে ২০১০ সালে গুয়াংজু এশিয়াডে সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে ইনচন এশিয়ান গেমসে সেটি হয়ে যায় রুপা। ২০২৩ হাংঝুতে ব্রোঞ্জ নিয়ে ফেরে বাংলাদেশ। নারীরা এবারই প্রথম পদক ছাড়া দেশে ফিরেছে।
