নাগোয়ার করোগি স্পোর্টস পার্কের উইকেট ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি। মেয়েদের ম্যাচগুলো দেখে অন্তত তাই মনে হয়েছে। মেয়েদের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১৬ রান করেছিল ভারত। বাংলাদেশের বিপক্ষেও ১৯৫ রানের পুঁজি গড়েছিল ভারতের মেয়েরা। একই উইকেটে গতকাল পুরুষদের সেমিফাইনালেও ভারত বড় স্কোর দাঁড় করায়। সেখানে ১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে টসে হেরে বাংলাদেশ তুলতে পারলো সাত উইকেটে ১১১ রান। পাকিস্তানের বিপক্ষে অন্যরা যখন ব্যর্থ, উল্টো স্রোতে দাঁড়িয়ে তাওহিদ হৃদয় একাই করলেন ২৫ বলে ৪২ রান। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার ও তানজিদ হাসান তামিম ৭, অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ২ ও পারভেজ হোসেন ইমন করলেন ১ রান। এমন ফ্ল্যাট উইকেটে টপ অর্ডারের ব্যর্থতাকে ম্যাচের হারে মোটেও দায় দিতে চান না লিটন কুমার দাস।
বৃহস্পতিবার করোগি স্পোর্টস পার্কে বাংলাদেশের স্বর্ণপদক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য শেষ হয়ে যাওয়ার পর লিটন অজুহাত হিসেবে সামনে টেনে আনলেন এখানকার উইকেট। সঙ্গে দুষলেন টস ভাগ্য আর বোলিংকে। এমনকি প্রথম ওভারে ১৮ রান খরচ করার পরও মোস্তাফিজে আস্থা রাখা নিয়ে নিজের ভুল দেখছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। পাকিস্তানকে ১১২ রানের লক্ষ্য দিয়ে শুরুটা ভালো করেছিলেন বাংলাদেশের তিন স্পিনার রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান ও নাসুম আহম্মেদ। শুরুর দুই ওভারে দুই উইকেটও তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। দুই উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন চাপে, তখনই চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসে ১৮ রান খরচ করেন মোস্তাফিজুর রহমান। মাঝের ওভারগুলোতে আবারও ম্যাচের লাগাম টানেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। এক পর্যায়ে দশের উপরে চলে যায় পাকিস্তানের প্রয়োজনীয় রানরেট। তখনই আবার মোস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেন লিটন। পাকিস্তানী স্পিনাররা যেখানে কার্যকর হয়েছে, নিজেরাও যখন চার স্পিনার নিয়ে দল গড়েছে, তখন মোস্তাফিজকে না আনলেও পারতেন কিনা, জানতে চাইলে একটু যেন বিরক্তই হলেন লিটন। এরকম প্রশ্নে তার বাঁকা জবাব, ‘আমার কাছে বেস্ট অপশন মোস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনো মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট, আপনি করাবেন।’ মাঝের ওভারগুলোতে বোলিং ভালো না হওয়াকে দায় দিয়ে লিটন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় আমরা মিডল ওভারে বোলিংটা যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম, যদি ওভার বাউন্ডারিগুলো কম খেতাম, তাহলে চান্স বেশি থাকতো।’ শুরুতেই তিন উইকেট পতনের ব্যাখ্যায় বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘শুরুটা মোটেই আদর্শ বলবো না।
তবে আমরা অনেক দিন ধরে রুমে বসা। প্লাস আমরা টসে হেরে গেছি। শুরুতে এসেই উইকেটটা বোঝা একটু কঠিন ছিল। ভালো খেলতে পারলে ভালো হতো, তবে এটা খুব সহজ না যে আপনি এতদিন বসে থাকবেন এবং গিয়েই খুব এক্সট্রা অর্ডিনারি ইনিংস খেলবেন। আমি হৃদয়কে কৃতিত্ব দিব যে ও আমাদের দলকে কামব্যাক করিয়েছে। মোসাদ্দেক এবং হৃদয়ের পার্টনারশিপটা খুবই ভালো ছিল।’ টানা পাঁচদিন বৃষ্টির কারণে উইকেট ঢাকা ছিল। বুধবার সেই কভার তুলে ফেলা হলেও সেখানে অনুশীলনের সুযোগ দেয়া হয়নি। তাই টসে হেরে শুরুতে ব্যাট করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। লিটন বড় সংগ্রহ না পাওয়ার জন্য এটাকেই বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘উইকেট যখন অনেকদিন কভার আপ থাকবে। তারপর ২০ ওভার উইকেটে খেললে একটা ধারণা আপনি পাবেন। আগে ব্যাট করায় সেই ধারণা আমাদের ছিল না। কারণ শেষ ক’দিন আমরা কোনো গেমও দেখিনি এবং উইকেটে প্র্যাকটিস করার সুযোগও নেই। একেবারে ধারণা ছাড়া আমরা ক্রিকেট খেলেছি ফার্স্ট কয়েকটা ওভার। এরপর আস্তে আস্তে ব্যাটসম্যানরা ধারণা পেয়েছে।’ পদক নিশ্চিত করার সুযোগটা নষ্ট হলো। শনিবার ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা।
