ধর্ষণের অভিযোগে এ্যাডভোকেট শামসুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর

ধর্ষণের অভিযোগে এ্যাডভোকেট শামসুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর পল্টনে শিউলী হক নামে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় এ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম এর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। গত ৩০শে সেপ্টেম্বর বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মাহমুদ হাসানের হাইকোর্ট ব্যঞ্চ এ জামিন আবেদন নাকচ করেন। এদিন আসামিপক্ষে জামিন শুনানি করেন এ্যাডেেভাকেট মোহাম্মদ আলী।

এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি ডেপুটি অ্যার্টনী জেনারেল এ্যাডভোকেট জামিলা বেগম। উল্লেখ্য, এ্যাডভোকেট শামসুল হক সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজলো বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। হাইকোর্ট ডিভিশনের বিজয় ২১ নং আদালত এডভোকেট শামসুল ইসলাম এর জামিন আবেদনটি যা ক্রিমিনাল আপিল নং ৬৩২৭/২৬। গত বৃহস্পতিবার আইটেম নং ৬৯২ সরাসরি নামঞ্জুর সহ আইটেম ডিলিট করেছেন হাইকোর্ট।

মামলার এজহারে বলা হয়, ভুক্তভোগী শিউলী হক গত ৩০শে জানুয়ারী পল্টন মডেল থানায় এ মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। পরে মামলাটি তদন্ত করে গত ২৮শে জুলাই চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এতে এ্যাডভোকেট শামসুল ইসলামের ধর্ষনের অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। মামলার এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, তিনি কাপড় ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যবসা-সংক্রান্ত একটি মামলায় জেলহাজতে আটক হওয়ার পর জামিনের জন্য আইনজীবী শামসুল হকের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। পরে ওই আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার বিষয়ে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে আসছিলেন তিনি। এজাহার অনুযায়ী, চলতি মাসে মামলার হাজিরার তারিখ জানার জন্য কয়েক দিন ধরে আইনজীবীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেন ওই নারী। পরে ২৯ জানুয়ারি দুপুরে আইনজীবীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করলে তাকে পরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় যোগাযোগের চেষ্টা করলে রাত ৮টা ৮ মিনিটের দিকে আইনজীবী তাকে পল্টন থানার ১৭৭ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণির বিজয়নগর এলাকার মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলায় তার অফিসে যেতে বলেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, ওই নারী রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আইনজীবীর অফিসে যান। সেখানে আইনজীবী একা ছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে কথা বলার পর তিনি অফিস থেকে বের হয়ে আসার সময় আইনজীবী পেছন থেকে তার কাপড় ধরে টান দেন। এতে তিনি অফিসের সোফায় পড়ে গেলে আইনজীবী তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী। এ সময় আসামির জোরজবরদস্তির কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে খামচানোর ফলে লালচে জখম হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অফিস থেকে বের হওয়ার সময় বিষয়টি গোপন রাখার জন্য তাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পরে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় গিয়ে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেন তিনি। পল্টন মডেল থানার এজাহারে অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন শিউলী হক।