তিন মাস পরপর ভ্যাট রিটার্নের সুযোগ বাতিল, জুলাই-আগস্টের সময় বাড়লো

তিন মাস পরপর ভ্যাট রিটার্নের সুযোগ বাতিল, জুলাই-আগস্টের সময় বাড়লো

ফন্ট সাইজ:

সর্বশেষ বাজেটে প্রতি তিন মাস পরপর ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ও প্রযোজ্য ভ্যাট পরিশোধের যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারও প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল এবং প্রযোজ্য ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার এনবিআরের মূসক মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয় শাখার দ্বিতীয় সচিব শেখ মো. মাসুদুর রহমানের সই করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে, জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না।
আদেশে বলা হয়, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ ভ্যাট রিটার্নসংক্রান্ত সংশোধিত বিধান অনুযায়ী প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন ই-ভ্যাট সিস্টেমে দাখিল করেনি।

এ অবস্থায় মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা (৩)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না।
আদেশে আরও বলা হয়, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন অবশ্যই ই-ভ্যাট সিস্টেমে দাখিল করতে হবে।

এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রতি তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে সরকার সেই সিদ্ধান্ত সংশোধন করে আগের নিয়মে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ও প্রযোজ্য কর পরিশোধের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে এ সংক্রান্ত খসড়া সংশোধনীর অনুমোদন দেওয়া হয়।

ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে আবারও প্রতি মাসের কর মেয়াদ শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ও প্রযোজ্য ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।