মাদক ব্যবসার বিরোধে সংঘর্ষ

চট্টগ্রামে মুরাদ বাহিনীর প্রধানসহ গ্রেপ্তার ৩

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় মাদক ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মুরাদ বাহিনীর প্রধান মো. মুরাদ (৪৩)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে জেলার পটিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার দুই সহযোগী সুমন (৩৫) ও রুহুল আমিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পটিয়ায় অভিযান চালিয়ে মুরাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের অভিযোগ।

জানা যায়, গত ২৭শে সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাকলিয়া থানার সৈয়দ শাহ রোডের মোরশেদ টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সড়কে চলাচলকারী কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায়ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে কয়েকটি বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয়রা জানান। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সংঘর্ষে দুই পক্ষের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন অংশ নেয়।

তাদের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যও ছিল বলে দাবি করেন তারা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মুরাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তার পিসিপিআর (পুলিশের অপরাধসংক্রান্ত পূর্ববর্তী রেকর্ড) যাচাই করে ১৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব মামলার মধ্যে মাদক, অস্ত্র, লুটপাট, দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে মুরাদের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ ‘মুরাদ বাহিনী’ নামে পরিচিত বলে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। মুরাদের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ায়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি চট্টগ্রাম নগরে বসবাস করছেন বলে স্থানীয়রা জানান। এদিকে মুরাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলে নিজেকে চান্দগাঁও থানা যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। যুবদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার ছবি ও ভিডিওও তার প্রোফাইলে রয়েছে বলে জানা গেছে।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর আলম জানান, সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় জসিমসহ মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে অভিযান চলছে। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, বাকলিয়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।