ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রায় ৪৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান, পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।
গত ২৭শে সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত অনুমোদনপত্র জারি করা হয়। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার দাখিল করা অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা করে কমিশন মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়। অনুমোদনপত্র অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হবে।
মামলার প্রধান আসামি প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার সঙ্গে আসামি করা হয়েছে সন্দীপ করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী স্বপন কুমার মিস্ত্রিকে। এ ছাড়া, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কমিটির সদস্য নাসিম আনোয়ার, সাবেক চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এ হাশেম, সাবেক পরিচালক এম নূরুল আলম, মো. জহিরুল আলম, বাসুদেব ব্যানার্জী, মো. নওশেরুল ইসলাম, মো. আনওয়ারুল কবির ও মো. নুরুজ্জামানকে আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সাবেক পরিচালক মো. নওশেরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ১৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। পাশাপাশি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৮ লাখ ৯১ হাজার ৯৮ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেন। দুদক আইন-২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় আসামি নওশেরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের সঙ্গে নওশেরুল ইসলাম জড়িত থাকার অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলাগুলোতে তিনি প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারের সহযোগী হিসেবে আসামি হয়েছেন। দুদকে পাওয়া অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে নওশেরুলের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ২০২১ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর সম্পদ বিবরণী ফরম পূরণ করে স্বাক্ষরসহ দুদকে জমা দেন।
এজাহার অনুযায়ী, সম্পদ বিবরণীতে নওশেরুল ১০৬টি দলিলের মাধ্যমে ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬১ টাকা মূল্যের জমি এবং অবকাঠামো নির্মাণ বাবদ ১ কোটি ৩৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা; সবমিলিয়ে ৫ কোটি ৮২ লাখ ৮২ হাজার ৮৬১ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ দেখান। তবে যাচাইয়ে ৫ কোটি ৯১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।
এ ছাড়া, বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার, এফডিআর, ডিপিএস, বীমা, সঞ্চয়পত্র, জুয়েলারি, আসবাবপত্র, পেনশন স্কিম, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা টাকা ও নগদ অর্থসহ মোট ১৯ কোটি ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৭১২ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। সবমিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ কোটি ৮৫ লাখ ৪১ হাজার ৬৭১ টাকা।
