ফিফা আসিয়ান কাপে মালয়েশিয়ার কাছে বড় হারের পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়াই করে হারে বাংলাদেশ। টানা দুই হারে গ্রুপ পর্ব থেকে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের বিদায় নিশ্চিত। এ দুই ম্যাচে দলের শক্তি-সামর্থ্য ও দুর্বলতা পরখ করে দেখেছেন হেড কোচ টমাস ডুলি। নভেম্বরে ঢাকায় সাফ শুরু হওয়ার আগে শিষ্যদের আরেকবার দেখে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। আসিয়ান কাপে গ্রুপ ‘এ’ তে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। আর শেষটায় লড়াই করতে চায় ডুলির শিষ্যরা। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু বিকাল সাড়ে ৬টায়। দেখা যাবে টি-স্পোর্টসে।
শক্তি সামর্থ্যের বিচারে বাংলাদেশের চাইতে ঢের এগিয়ে ইন্দোনেশিয়া। ফিফার বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে ১১৮তম তারা। ৬৩ ধাপ পরে বাংলাদেশ। সাফের আগে এমন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলে নিজেদের ভুল-ত্রুটি সংশোধন ও লড়াকু মানসিকতা নিয়ে ঘরে ফেরাই দলের লক্ষ্য। তবে ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ফেবারিট মানছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া আধিপত্য বজায় রেখে খেলবে। কিন্তু আমাদেরও পরিকল্পনা আছে। কোচ এ নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলাপ করবেন।‘ ফিফা আসিয়ান কাপের শেষটায় ভালো করতে চায় বাংলাদেশ। এ নিয়ে জামাল বলেন, ‘ফুটবলে সব সম্ভব। আমরা আশা করি আমরা একটা ভালো পারফরম্যান্স করবো। জয়ের জন্যই নামবো। জয় পেলে তো দারুণ। ড্র করলেও সেটা আমাদের জন্য ভালো একটা ফলাফল। তবে আমরা সমর্থকদের ভালো একটা লড়াই উপহার দিতে চাই।‘ ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য বাংলাদেশের পোস্টারবয় হামজা চৌধুরীর তর সইছে না।
তিনি বলেন, ‘আমি এই ম্যাচের জন্য মুখিয়ে আছি। আমি জানি, সেখানে অনেক দর্শক থাকবে, যা দল হিসেবে আমাদের জন্য আরও একটি দারুণ অভিজ্ঞতা হবে। ইন্দোনেশিয়া বেশ শক্তিশালী দল। ইউরোপের শীর্ষ লীগগুলোতে তাদের অনেক খেলোয়াড় খেলছে। তাই এটি আমাদের জন্য আরেকটি কঠিন পরীক্ষা। তবে আমরা তো মূলত এই কারণেই এখানে এসেছি—যেন আমাদের চেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করতে পারি।’ টুর্নামেন্টে প্রথম দুই ম্যাচে দলের লড়াকু মানসিকতা নিয়ে সন্তুষ্ট হামজা। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এই স্তরে এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারাটা দারুণ ব্যাপার। র্যাঙ্কিংয়ে তারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে, কিন্তু মাঠের কিছু নির্দিষ্ট মুহূর্ত দেখলে আপনি সেই পার্থক্যটা টের পাবেন না। তাই নিশ্চয়ই আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি। আমার মনে হয় আমরা শুধু দলের মূল দুটি বা তিনটি ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছি, এবং আশা করি দ্রুতই আমরা সবকিছু সঠিকভাবে গুছিয়ে নিতে পারবো।’ সাফের শিরোপায় চোখ হামজার, ‘নভেম্বরে ঘরের মাঠে আমাদের একটি বড় টুর্নামেন্ট আছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেটিকে লক্ষ্য করেই নিজেদের গড়ে তুলছি এবং আশা করি সেখানে কিছু সাফল্য অর্জন করতে পারবো।’
ইন্দোনেশিয়া ফুটবল দল সাধারণত হাই প্রেসিং ফুটবল খেলে। মাঝমাঠে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রক্ষণে চাপ বাড়ায়। এদিক সামলাতে মাঝমাঝে হামজা-শমিত সোমদের মিড ব্লক কৌশলে খেলাতে পারেন ডুলি। আক্রমণভাগে শুরুর একাদশে থাকতে পারেন ফারহান আলী ওয়াহিদ। তার সঙ্গে লেফট উইং সামলানোর দায়িত্ব থাকবে শুকি ইতোফোসার উপর। সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে থাকবেন রাকিব হোসেন। ইন্দোনেশিয়ার ট্রাম্পকার্ড হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন পেলুপেসি। গারুদা ক্লাবে খেলা এ মিডফিল্ডারকে ঠিকঠাক মার্কিং করতে না বাংলাদেশের জন্য পারলে বিপদ হতে পারেন তিনি। ডিভিশন ওয়ানে বাংলাদেশ বাদে ‘এ’ গ্রুপে বাকি তিন দলেরই সুযোগ আছে ফাইনালে খেলার। দুই ম্যাচে সমান ৪ পয়েন্ট মালয়েশিয়া ও স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষে মালয়েশিয়া। তিন পয়েন্ট নিয়ে তিনে সিঙ্গাপুর। ফলে বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে যেতে চাইবে ইন্দোনেশিয়া। বাংলাদেশ যদি ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে চমক দেখাতে পারে তবে সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া ম্যাচের জয়ী দল খেলবে ফাইনাল।
