এশিয়ান গেমস থেকে জ্বর নিয়ে দেশে ফিরেছেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট এবং জিম্বাবুয়েকে নিয়ে তিন জাতি সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দল আজ রাতে দেশ ছাড়বে। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে দলের সঙ্গে প্রথম দফায় যেতে পারছেন না নাজমুল। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ব্যবস্থাপক শাহরিয়ার নাফীস বলেন, ‘শান্ত কিছুটা জ্বরে ভুগছিল। আমরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে এশিয়ান গেমস থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছি। সে গতকাল রাতে বাংলাদেশে ফিরেছে। আজ সে ডাক্তার দেখিয়েছে। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, সে সুস্থতার দিকে এগোচ্ছে। আমরা খুবই আশাবাদী, যথাসময়ে সে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবে।’ টেস্ট শুরুর আগে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নাজমুল দুবাইয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে আশা প্রকাশ করছে ক্রিকেট বোর্ড। গেমসে থাকা জাতীয় দলের অন্য সদস্যরা তিন অক্টোবর নিজেদের খেলা শেষ করে সরাসরি মূল দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
আজ রাত সোয়া ১০টার ফ্লাইটে টেস্ট দলের একটা অংশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবে। মূল সিরিজ শুরুর আগে চার ও পাঁচ অক্টোবর স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এই প্রস্তুতি ম্যাচের আগেই অধিনায়ককে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী নাফীস। তিনি বলেন, ‘যদিও সে আগামীকাল দলের সঙ্গে যাচ্ছে না, আমাদের মূল টুর্নামেন্ট ও সিরিজ তো পাঁচ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, যথাসময়ে সুস্থ শান্তকে আমরা পাব, ইনশাআল্লাহ।’ আবুধাবিতে ৯ই অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ১৭ই অক্টোবর তিন জাতি সিরিজের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আবুধাবিতে। ১৯ই অক্টোবর আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে মাঠে নামবে। ২১শে অক্টোবর আফগানিস্তানের সঙ্গে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ২৩শে অক্টোবর ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল হবে শারজায়। ভেন্যু এবং টুর্নামেন্ট প্রসঙ্গে নাফীস বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচটা আবুধাবিতে হবে। একটা ট্রাই নেশন ওয়ানডে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে বাংলাদেশ। যেখানে আফগানিস্তান এবং জিম্বাবুয়ে খেলবে।’
আবুধাবির তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন কন্ডিশনে খেলোয়াড়দের এবং পেসারদের ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরি করা একটি প্রধান বিষয়। কন্ডিশন সামলানো নিয়ে নাফীস বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত নরমালি যেটা দেখেছি বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট এই প্রত্যেকটা ফ্যাক্টর চিন্তাভাবনা করেই কিন্তু তাদের দল গঠন করেছে। এখন পর্যন্ত আমরা তাই দেখেছি। টিম ম্যানেজমেন্টের যে প্ল্যানিং সেটা তো আমি বলতে পারবো না তবে অবশ্যই এতটুকু আমরা এনশিওর করতে পারি যে প্রত্যেকটা প্লেয়ারের সুস্থতা, তাদের ওয়েল বিয়িং এবং কন্ডিশন এগুলো তো অবশ্যই তাদের বিবেচনায় থাকে।’
আগামী দুই থেকে তিন মাসের ব্যস্ত ক্রিকেট সূচিতে খেলোয়াড়দের শারীরিক সতেজতা রক্ষা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। খেলোয়াড়দের বিশ্রামের প্রয়োজন ও রোটেশন ব্যবস্থা নিয়ে নাফীস জানিয়েছেন, ‘প্লেয়ারদের নিয়ে যে কনসার্নগুলো আছে রিয়েলিস্টিক কনসার্ন এগুলো নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট অলরেডি কাজ করছে এবং তারা ডেফিনেটলি সেই রোটেশন যেটা প্রয়োজন কাকে কি রেস্ট দেয়ার প্রয়োজন এটা টিম ম্যানেজমেন্টের রেসপন্সিবিলিটি।’ চোটের ঝুঁকি কমিয়ে একের পর এক সিরিজে ক্রিকেটারদের প্রস্তুত রাখতে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বিসিবি।
