চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন সময়ে নিহত জামায়াত-শিবিরের ১১ নেতাকর্মীর হত্যা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী সীতাকুণ্ড উপজেলা শাখা। বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় সীতাকুণ্ডের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান উপজেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ তাহের।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সীতাকুণ্ড থানার অধীনে বিভিন্ন সময়ে নিহত ১১ জনকে ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, শহীদ মো. ওসমানকে পুলিশের গুলিতে হত্যা করা হলেও মামলার বাদীপক্ষকে না জানিয়ে ‘মনগড়া ও ভিত্তিহীন’ চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্তেরও দাবি জানানো হয়।
এছাড়া বিভিন্ন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন জামায়াত নেতারা। মামলার বাদী, আইনজীবী ও সাক্ষীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- মো. ওসমান হত্যা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাতিল করে পুন:তদন্ত, অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার, বাদী-আইনজীবী-সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ১১ শহীদ হত্যা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন এবং প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চালানোর ঘোষণা দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. জসীম উদ্দীন আজাদ, সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি কুতুব উদ্দিন শিবলু, মিডিয়া সমন্বয়ক আবুল হোসেন, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মেজবাহ উল আলম রাসেল এবং সীতাকুণ্ড পৌরসভা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ।
