বোয়িং কেনায় কোনো গোপন এজেন্ডা নেই

বোয়িং কেনায় কোনো গোপন এজেন্ডা নেই

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ বিমানে উড়ানের সংখ্যা বাড়াতেই মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বোয়িং-এর সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এক্ষেত্রে বাইরের চাপ বা কাউকে তুষ্ট করার দাবি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরবিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বোয়িং ক্রয় সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, উন্মুক্ত ফোরামেই বোয়িং কেনার চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়েছে। এখানে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, একটি উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে। যেখানে হোয়াইট হাউসের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের চারজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বোয়িং কিনেছি। ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ বোয়িংয়ের ভারী বিমান ব্যবহার করে আসছে। আমাদের মিশ্র বহরের প্রয়োজন আছে।
এ নিয়ে এই বছর মোট ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করলো ঢাকা। এর আগে গত এপ্রিলে প্রাথমিকভাবে বোয়িং-এর কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউ ইয়র্ক সফরের মধ্যেই গত ২২শে সেপ্টেম্বর আরও ১১টি উড়ান কেনার চুক্তি করেছে সরকার।
গতকালের ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। হুমায়ুন কবির বলেন, চারদিনের নিউ ইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেয়ার পাশাপাশি সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য প্রদান এবং ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।

অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্ক ও ইরানের প্রেসিডেন্ট, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট, ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রী এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা, গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী, বোয়িং গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। হুমায়ুন কবির জানান, এসব বৈঠকের মধ্যদিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি অনুবিভাগের সচিব এম. ফরহাদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ. কে. এম. শহীদুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।