বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে বইপড়া কর্মসূচিতে পুরস্কার পেলো ৫৮২৩ শিক্ষার্থী

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত দুইদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসবের শেষ দিনে ঢাকা মহানগরীর ৩৬টি স্কুলের ২ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হয়েছে। গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় শনিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এ পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর আগে উৎসবের প্রথমদিনে ঢাকা মহানগরীর ৩৬টি স্কুলের ৩ হাজার ৩০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হয়। দুইদিনে মোট ৭১টি স্কুলের ৫ হাজার ৮২৩ জন শিক্ষার্থী বইপড়া কর্মসূচিতে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে।

ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তিনটি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেয়া হয়। এর মধ্যে ‘শুভেচ্ছা’ ক্যাটাগরিতে ৪ হাজার ২৮৮ জন, ‘অভিনন্দন’ ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৩৬৭ জন এবং ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে ১৬৮ জন শিক্ষার্থী পুরস্কার পেয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪ হাজার ৮০৫ জন মেয়ে এবং ১ হাজার ১৮ জন ছেলে।

শেষ দিনের অনুষ্ঠানে লেখক ও অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ বলেন, শিক্ষার্থীদের বর্তমান সময়টা প্রস্তুতি নেয়ার। সামনে তাদের নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। বই পড়ে অর্জিত জ্ঞান তাদের সঠিক পথে এগিয়ে যেতে এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রকাশক ও সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। এ ধরনের মনোভাব ব্যক্তি ও সমাজকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখে। তিনি শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি বই পড়ার পরামর্শ দেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এখন তাদের পড়াশোনার সময়।

এ সময়ে বেশি বেশি বই পড়তে হবে। বই থেকে অর্জিত জ্ঞান শুধু পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনেও কাজে লাগাতে হবে। বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান ও মননশীলতার বিকাশের পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগের পরামর্শ দেন তিনি। গ্রামীণফোনের কৌশলগত কর্মসূচি প্রধান মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, বইপড়া কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বিশ্বসাহিত্যের বিভিন্ন বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। এতে তাদের জানার পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে গ্রামীণফোন গর্বিত বলেও জানান তিনি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক সচিব খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান স্বাগত বক্তব্যে বছর জুড়ে বইপড়া কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনায় সহযোগিতার জন্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ জানান। দুই দিনব্যাপী পুরস্কার বিতরণ উৎসব আয়োজনে সহযোগিতার জন্য গ্রামীণফোনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। আগামী বছরগুলোতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে বইপড়া কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে উৎসবের দ্বিতীয় দিনের পঞ্চম পর্বের অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে অতিথিরা বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এদিকে এ বছর প্রথমবারের মতো বইপড়া কর্মসূচির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিশু-কিশোররা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান লাভ করবে। উৎসবস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’ও রাখা হয়। সেখানে অভিভাবক ও শিক্ষকদের শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ সম্পর্কে সচেতনতামূলক তথ্য দেয়া হয়। শেষ দিনের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক ও অনুবাদক আফসানা বেগম এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ও প্যারাগন গ্রুপের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান।
দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের পুরস্কারের বইয়ের পৃষ্ঠপোষকতা করছে গ্রামীণফোন লিমিটেড।