সিলেটে যে গুঞ্জন

সিলেটে যে গুঞ্জন

ফন্ট সাইজ:

এনসিপি নেতাদের গণধোলাই দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। বলেছেন, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই গণধোলাই দিতে হবে। এদিকে বিএনপি নেতার এ বক্তব্যকে ঘিরে সিলেটের রাজনীতিতে নতুন করে গুঞ্জন চলছে। নেট দুনিয়ায় চলছে পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্য। তবে বিএনপি অনুসারী নেতাকর্মীরা তার এই বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, বুধবার বিকালে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। বক্তব্যের অংশটুকু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

তারা বলেন, এই বক্তব্যের অন্য একটি কারণও রয়েছে। কয়েক মাস আগে এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জে বাধার মুখে পড়েছিলেন। তখন সিলেট এনসিপি’র এক নেতা বলেছিলেন, এ ধরনের ঘটনা সিলেটে ঘটলে কয়েকটাকে নিয়ে পড়ে যেতেন। ওই বক্তব্যের পর থেকে সিলেট বিএনপি সহ অঙ্গসংগঠনে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এরপর এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটের জৈন্তাপুরে এসে আক্রান্ত হলেও তারা বিষয়টিকে বেশি দূর এগিয়ে নেননি। নীরবেই সিলেট ছাড়েন এনসিপি’র নেতারা। এ ঘটনার পর সিলেটে এনসিপি’র পক্ষ থেকে বড় কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। সোমবার রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল শেষে এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমাদের তিন দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না। তার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সিলেট নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ বক্তব্য দিয়েছেন বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন। দলীয় কর্মসূচিতে এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ডার্বি নাসীর নামে পরিচিত এই পাটওয়ারী কিছুদিন ধরে অযাচিত বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। সে বলছে— তাদের তিন দাবি মেনে নিলে নাকি ঢাকা শহরে আর কোনো ককটেল ফুটবে না। এ ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। শুধু নাসীরই নয়, এনসিপি’র নেতাদের বক্তব্য রাজনীতির পরিবেশকে নষ্ট করছে। তাদের প্রতিহত করতে না পারলে দিন দিন তাদের আস্ফালন বাড়বে। যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই গণধোলাই দিতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে বক্তব্য দেয়ার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্য প্রদানের পরদিন গতকাল বিকালে এমদাদ হোসেন চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন— কিছুদিন ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপি’র নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন তা শিষ্টাচারবহির্ভূত। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় তাদেরই বহন করতে হবে। তিনি জানান— প্রকৃত জুলাইযোদ্ধারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে ককটেলবাজি করতে পারে না। তারা যে বক্তব্য দিয়েছে তাতে প্রশ্ন উঠেছে আসলেই কী তারা প্রকৃত জুলাইযোদ্ধা। আর তাদের বক্তব্য প্রমাণ করে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য তারাই দায়ী। তিনি বলেন—যে ভাষায় কথা বলা হচ্ছে সেটি গণতান্ত্রিক ভাষা নয়। দেশের মানুষ তাদের এই কর্মকাণ্ডকে ভালো চোখে দেখছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এমদাদ হোসেন বলেন, গণতন্ত্রের ভিন্ন ভাষা রয়েছে। রাজনীতিবিদরা ভালো এবং পরিশীলিত আচরণ করেন। কথাবার্তায় সতর্ক থাকতে হয়। এসব বিষয় মেনে চলার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট মহানগর বিএনপি’র সভাপতি নাসিম হোসেন বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তখনই দেশে আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত হয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ জন্য সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।