যারা আমাদের কর্মসূচি বানচাল করতে চায় তারা আগুন দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা তো ৭ দফা দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। কর্মসূচি চলাকালে, কর্মসূচির স্বার্থে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারি না। গতকাল বিকালে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিক বলেন, গণভোটের রায় না মানার মধ্য দিয়ে সংকট তৈরি করা হয়েছে। এই সংকট সরকারি দল তৈরি করেছে। অথচ সরকার একই সময়ে সংসদের দু’টি অধিবেশন আহ্বানের মাধ্যমে অনেক সংকটের সুরাহা করতে পারতেন।
জামায়াত সহ ১১ দলীয় জোটের চলমান কর্মসূচি সম্পর্কে জোট প্রধান বলেন- আমাদের ঘোষিত ৭ দফা আন্দোলনের কোনোটিই দলীয় কোনো দাবি নয়। সব দাবিই সাধারণ মানুষের দাবি। যদি সংসদে আমাদের দাবি মেনে নেয়া হতো তাহলে আমরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হতো না। তিনি বলেন, সরকারের মাত্র ৬ মাস বয়সের মধ্যে আমাদের আন্দোলনে নামতে হচ্ছে। ৬ মাসের মাথায় তো সব শেষ করে দেয়া হচ্ছে। মানুষের এই দাবি নিয়ে আমরা মানুষের কাছাকাছি যাচ্ছি। আপনাদের কাছে যদি যথাযথ মনে হয় তাহলে আপনাদেরও সহযোগিতা চাচ্ছি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, অপ্রতিম ছেলেটার উপর এখন দোষ দেয়া হচ্ছে। দেশের কোথাও স্বস্তি নেই। শান্তি নেই। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের ত্রাহি অবস্থা। এখনো মব চালানো হচ্ছে। ৫ই আগস্ট বর্ষপূর্তির আগের দিন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে মব করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের খবর রাখলেও নিজের মন্ত্রণালয়ের খবর রাখেন না। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বলেন, রোহিঙ্গরা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াতে সবচেয়ে বেশি প্রবেশ করেছে। এখন অনেক শিশুর জন্ম হয়েছে। এ ইস্যুটির সমাধান করতে চীন ও ভারতকে এগিয়ে আসতে হবে। তারা ছাড়া এই ইস্যুটির সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন- রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তাদের একটি জায়গায় বন্দি করে রাখাও ঠিক নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এভাবে আশ্রিতদের বন্দি রাখা হয় না। তাদের সংক্ষিপ্ত পরিসরে হলেও চলাচলের পরিধি বাড়ানো উচিত।
মতবিনিময় সভায় সিলেটের সাংবাদিকরা ছাড়াও জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ‘অ্যাক্রেডিটেশন’ উদ্যাপন: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন গৌরবের মাইলফলক। স্বীকৃতি অর্জনের চেয়ে তা ধরে রাখা এবং এর মর্যাদা রক্ষা করা আরও কঠিন। অ্যাক্রেডিটেশন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার নগরীর আমান উল্লাহ কনভেনশন হলে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কিছু মানুষের সাহসী উদ্যোগের ফলে সিলেটে শুধুমাত্র নারীদের জন্য এই মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার সুযোগ হয়েছিল। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। নারীদের বিশ্বমানের চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বৃহত্তর সিলেটের মানুষের চিকিৎসাসেবায়ও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র আটটি প্রতিষ্ঠান অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন করেছে।
এর মধ্যে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত গৌরবের। এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. শাহানা ফেরদৌসের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. হোসাইন আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, হলি সিলেট হোল্ডিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফজলুর রহিম কায়সার, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এমএ মতিন ও মো. ফখরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অধ্যাপক ডা. ওয়েছ আহমদ চৌধুরী, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী এবং উদ্যোক্তা পরিচালক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন— সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. তহুর আব্দুল্লাহ চৌধুরী।
