দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারো চারদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ আদেশ দেন। এ মামলায় চারদিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি’র তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে আবারো সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মৃত নারী খুবই আবেগী ছিল। অভিমানে আত্মহত্যা করে এবং পারিবারিকভাবে বিভিন্ন প্রকার ঝামেলার দরুন এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তদন্তকালে জানা যায়। মামলাটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা এবং মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য আসামিকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত প্রয়োজন। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের জন্য মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে আসামিকে পুনরায় ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন। এর আগে গত ২০শে সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন।
মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমান—এই ৩ জনকে আসামি করা হয়।
এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ২১শে সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলের চারদিন ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের একদিন রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে গত ২২শে সেপ্টেম্বর মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর ২৩শে সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, চারদিনের জিজ্ঞাসাবাদে কাঙ্ক্ষিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এই কারণে আরও ৭ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করছি।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেছেন, ‘আসামি গাজী নজরুল ইসলাম হার্টের রোগী, তার রিং পরানো আছে। এখন চিকিৎসা চলছে। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে ২০ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক, কোনো সমস্যা না। তার পালানোর কোনো সুযোগ নেই। এইভাবে হ্যারাজ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগের সঙ্গে বিন্দুমাত্র তার সংশ্লিষ্টতা নেই। আমরা তার জামিন প্রত্যাশা করছি।’ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
