মৌলভীবাজারের রাজনগরে অনিতা ভূমিজ (২৬) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সজল ভূমিজ (৩৫)-এর বিরুদ্ধে। নিহতের মা ও আত্মীয়স্বজন কাউকে দেখার সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাহ করার কারণে সন্দেহ আরও ঘণীভূত হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা দিলু ভৌমিক বাদী হয়ে রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গত শনিবার রাতে রাজনগর চা-বাগানের ভূঁইয়া লাইলে ঘটনাটি ঘটলেও সোমবার বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে ওইদিনই রাজনগর থানার পুলিশ অভিযুক্ত অনিতার স্বামী সজল ভূমিজ ও তার ভাসুর কাজল ভূমিজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
মামলা, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের রাজনগর চা-বাগানের ভূঁইয়া লাইনের রঘু ভূমিজের ছেলে সজল ভূমিজের সঙ্গে প্রায় ১৩ বছর আগে বিয়ে হয় শ্রীমঙ্গল উপজেলার লাখাইউড়া চা-বাগানের দিলু ভূমিজের মেয়ে অনিতা ভূমিজের সঙ্গে। তাদের ঘরে ৯ বছর ও ৬ বছরের দু’টি ছেলে মেয়ে সন্তান রয়েছে। গত শনিবার রাতে পূঁজায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রী অনিতা ভূমিজের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। পূঁজা চলাকালীন সময়ে সজল মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে লাঠি দিয়ে অনিতার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে সে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে।
অনিতাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার দেবর উজ্জল ভূমিজ আহত হয়। তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে অনিতার মা’কে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানালেও তিনি ও আত্মীয়স্বজন আসার আগেই লাশ দাহ করা হয়।
অনিতার ৯ বছর বয়সী ছেলে রাহুল ভূমিজ জানায়, তার বাবা ঘরে এসে মা’কে মারধর করে। একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সেখানেই মারা যান। এরপর তারা জ্বালিয়ে দেয়। নিহতের মা দিলু ভৌমিক বলেন, আমার মেয়ের মৃত্যুর খবর আমাকে ফোনে জানানো হয়। আমি আসার আগেই তারা আমার মেয়েকে চিতায় তুলে দেয়। মেয়েকে শেষবার দেখার সুযোগও আমাকে দেয়া হয়নি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমি তাদের ফাঁসি চাই। রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, আনিতা হত্যায় তার মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এজাহারভুক্ত ২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামি কাজল ভূমিজ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
