সিদ্ধিরগঞ্জে পদ্মা অয়েল পিএলসি’র গোদনাইল ডিপোর কর্মীদের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষক দলের সদস্য সচিব সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ ফয়সালকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাছিনুজ্জামান বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে দুপুর ১২টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পদ্মা অয়েল পিএলসি’র গোদনাইল ডিপোর জেট এ-১ পয়েন্টে চেকার হিসেবে কর্মরত মো. রফিকুল ইসলামের কাছে গত ১লা জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করেন ফয়সাল। এ সময় ডিপোর জেট-এ-১ পয়েন্টে কর্মরত কর্মীদের কাছ থেকে এককালীন ২০ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফয়সাল ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হত্যার হুমকি দেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময় ফোন করেও একইভাবে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১লা আগস্ট সকাল সোয়া ১১টার দিকে ফয়সাল অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে গোদনাইল ডিপোর জেট এ-১ পয়েন্টে প্রবেশ করেন। সেখানে কর্মীদের কাছে আবারও এককালীন ২০ লাখ টাকা ও প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
কর্মীরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে চাঁদার টাকা না দিলে ডিপোতে চাকরি করতে দেয়া হবে না এবং থানায় অভিযোগ বা মামলা করলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত মার্চেও ফয়সালের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় সিদ্ধিরগঞ্জের দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া সংবাদমাধ্যমকে দেয়া বক্তব্যে দাবি করেছিলেন, ফয়সাল ও তার সহযোগীরা তাদের ড্রেজার ব্যবসা থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
এ ছাড়া গত ১লা আগস্ট পদ্মা অয়েলের গোদনাইল ডিপোর ভেতরে প্রবেশ করে কর্মীদের হুমকি দেয়ার অভিযোগও ওঠে ফয়সাল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। প্রকাশিত অভিযোগে বলা হয়, এটিএফ ডেলিভারি পয়েন্টে কর্মী পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ফয়সাল, তার সহযোগী সজীব ভূঁইয়াসহ ১৫ থেকে ২০ জন ডিপোর ভেতরে প্রবেশ করেন এবং নবনিযুক্ত কর্মীদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেন।
