চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে আমিনুল ইসলাম (৬৪) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ। গতকাল তাকে যথাযথ পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউপি’র ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উল্লাশ্বর (হাবিবউল্লাহ চেয়ারম্যান বাড়ি) এলাকায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়ানোর সময় বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধরের হুমকি ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি ওই এলাকার মৃত হাসান আহাম্মেদের পুত্র। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়।
শিশুটি প্রায় দুই বছর ধরে ওই শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ছিল। পরিবারের দাবি, গত তিন-চার মাস ধরে বিভিন্ন সময় তাকে ভয়ভীতি ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে শিশুটি জানিয়েছে। ঘটনার দিন বাড়িতে ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করলে স্কুলের শিক্ষিকা সামছুন্নাহার বিষয়টি জানতে চান। পরে শিশুটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো তাকে জানায়। শিক্ষিকা ফোন করে শিশুটির মা’কে বিষয়টি জানান এবং ওই শিক্ষকের কাছে আর না পাঠানোর পরামর্শ দেন। শিশুটির মা জানান, মেয়ের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, পড়তে গেলে তাকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হতো। বস্তায় ভরে মারধর ও বালিশ চাপা দিয়ে মারার হুমকি দেয়ার পাশাপাশি হাত-পা টেনে ধরা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। একটি ঘটনায় জামাকাপড় খুলে ফেলার অভিযোগও করেছে শিশুটি।
ওই সময় শিক্ষকের পরিবারের একজন নারী সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলেও সে জানিয়েছে। বিষয়টি জানার পর মা প্রথমে আত্মীয়স্বজন এবং পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনসহ কয়েকজনকে জানান। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা উদ্ঘাটন করে ন্যায়সঙ্গত বিচার দাবি করেন।
শিশুটি জানায়, এসব ঘটনা কাউকে জানালে তাকে মারধর ও বালিশ চাপা দেয়ার ভয় দেখানো হতো। এ কারণে সে আগে কাউকে কিছু বলতে পারেনি। পরে ওসি মীর মাহবুবুর রহমানের দিকনির্দেশনায় এসআই (নি.) মো. আইয়ুব খান সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন। জানা যায়, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সংবাদ পেয়েই গুরুত্বের সঙ্গে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করে যথাযথ পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
