ঝিনাইদহে আলোচিত শিশু সাবা হত্যা মামলায় একমাত্র নারী আসামির যাবজ্জীবন

ফন্ট সাইজ:

ঝিনাইদহ শহরের পবহাটী গ্রামের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সাড়ে তিন বছরের নিষ্পাপ শিশু সাইমা আক্তার সাবা হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি প্রতিবেশী শান্তনা খাতুন (৩০) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে ঝিনাইদহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. হেলাল উদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার এজাহার ও আদালতের রায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে কোর্ট পরিদর্শক মোক্তার হোসেন জানান, ২০২৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর সকাল ৮টার দিকে পবহাটী গ্রামের সাইদুল ইসলামের সাড়ে তিন বছরের কন্যাসন্তান সাইমা আক্তার সাবা খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও মেয়ের সন্ধান না পেয়ে বাবা সাইদুল ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দিনভর পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা আশপাশের বিভিন্ন স্থান ও পুকুরে অনুসন্ধান চালিয়েও শিশুটির কোনো খোঁজ পাননি।

অবশেষে ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে পবহাটী গ্রামের প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুমের ঘরের ভেতর থেকে সাবার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। সারাদিন ঘরের ভেতর লাশ লুকিয়ে রাখার পর রাতের আঁধারে বাইরে ফেলার চেষ্টা করছিল মাসুমের স্ত্রী শান্তনা খাতুন। তবে তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে প্রতিবেশীরা ঘর তল্লাশি চালিয়ে কম্বলে প্যাঁচানো মরদেহ উদ্ধার করে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পরই পুলিশ শান্তনাকে আটক করে এবং পরবর্তীতে সাবা হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ঘটনার তদন্ত শেষে ঝিনাইদহ সদর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোজ কুমার ঘোষ দ্রুততম সময়ে মাত্র ২৭ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এর আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শান্তনা সাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করে। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ঘটনার দিন সকালে তার ছেলে আবু জুবায়েরের সঙ্গে সাবা খেলতে গিয়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে সে সাবার মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হলে ধরা পড়ার ভয়ে লাশ ঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আকিদুল ইসলাম জানান, ১৬৪ ধারার জবানবন্দি, উদ্ধারকৃত আলামত এবং ২৭ জন সাক্ষীর দীর্ঘ শুনানি ও তথ্য-প্রমাণাদি পর্যালোচনা শেষে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামি শান্তনাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।