প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলছাত্রীর দাঁত ভেঙে দিলো বখাটে

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলছাত্রীর দাঁত ভেঙে দিলো বখাটে

ফন্ট সাইজ:

বরগুনার বেতাগীতে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ পুলিশকে জানানোর কারণে মারধর করে ওই স্কুলছাত্রীর পাঁচটি দাঁত ভেঙে দিয়েছে ফয়সাল মৃধা নামে এক বখাটে। এতে শিক্ষার্থীর তিনটি দাঁত উপড়ে গেছে এবং দু’টি দাঁত ভেঙে গেছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে বেতাগী থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ বখাটের মা’কে গ্রেপ্তার করেছে। স্কুলছাত্রীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী গ্রামের ফরিদ মৃধার ছেলে ফয়সাল মৃধা একই গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিলো। ফয়সাল ওই শিক্ষার্থীর দূরসম্পর্কের মামা। গত শনিবার (১৯শে সেপ্টেম্বর) রাতে ওই শিক্ষার্থী বাড়ির বাইরে টয়লেটে গেলে ফয়সাল তাকে শারীরিক হেনস্তা করেন।

এ সময় শিক্ষার্থীর চিৎকারে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে ফয়সাল পালিয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীর মা জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে বেতাগী থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ফয়সাল ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিসসহ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এর দুইদিন পর স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ফয়সাল ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। পরে তার সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা বিষয়টি শিক্ষকদের জানালে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে বরগুনা হাসপাতালে নিয়ে যান। শিক্ষার্থীর মা জানান, শনিবারের ঘটনার পর প্রতিকার চেয়ে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। কিন্তু এরপরও তার মেয়েকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে।

তিনি ঘটনার বিচার দাবি করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস বলেন, শনিবার পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। তখন ফয়সালের মা পুলিশে অভিযোগ করার কারণে তাদের ফল ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি সোমবারের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ননী গোপাল মালাকার বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। বেতাগী থানার ওসি মো. হারুন অর রশীদ হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার আসামি ফয়সালের মা মোসা. শিরীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।