সিএনজিতে ফেলে গেলেন কারিগরি বোর্ডের ১০০ খাতা, মেলেনি খোঁজ

ফন্ট সাইজ:

ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের এক শিক্ষকের চরম অবহেলায় হারিয়ে গেছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফাইনাল পরীক্ষার প্রায় ১০০টি উত্তরপত্র। পরীক্ষার পর ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সিএনজি অটোরিকশায় ভুলবশত ফেলে আসা এসব খাতার হদিস মেলেনি ঘটনার দুইদিন পরও। ইনস্টিটিউট ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২০শে সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কারিগরি বোর্ড থেকে মূল্যায়নের জন্য আনা ১০০টি উত্তরপত্র নিয়ে ফেনী শহরের মহিপাল থেকে সদর হাসপাতাল মোড়ে আসার সময় একটি সিএনজি অটোরিকশায় খাতাগুলো ফেলে রেখে নেমে যান সংশ্লিষ্ট শিক্ষক।

এরপর থেকে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করা হলেও খাতাগুলোর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে, বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পরিচয় গোপন রাখা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম রহস্য ও বিতর্ক। ওই শিক্ষকের নাম-পরিচয় জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় প্রধান ও ইন্সট্রাক্টরসহ ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তাই মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে সোমবার সকালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অতিথি শিক্ষক লিও মো. মেহেদী হোসাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উত্তরপত্রগুলো ফেরত চেয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেন। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফেসবুক পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং এ বিষয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী এমন গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক নথি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, একটি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফলের ওপর শিক্ষার্থীদের পুরো ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ নির্ভর করে।

এত বড় গাফিলতির ফলে চূড়ান্ত ফলাফলে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে তারা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী আজম জানান, ২০শে সেপ্টেম্বর সকালে শিক্ষক ভুলবশত উত্তরপত্রগুলো সিএনজিতে রেখে আসেন এবং তিনি এখনো তা খোঁজার চেষ্টা করছেন। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. জাহেদুল কবির খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উত্তরপত্র হারানোর বিষয়টি এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট বোর্ড কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম জানতে চাওয়া হলে নতুন যোগদানের অজুহাতে নাম জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ। উত্তরপত্র উদ্ধার না হলে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে বিকল্প কী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে- তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।