মাদ্রাসাছাত্রীকে ৫ দিন আটকে রেখে গণধর্ষণ

মাদ্রাসাছাত্রীকে ৫ দিন আটকে রেখে গণধর্ষণ

ফন্ট সাইজ:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ৫ দিন আটকে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। গত সোমবার মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় এবং রাজনগরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার খারপাড়া গ্রামের রাজু আহমেদ (২২), একই উপজেলার বাহাদুরগঞ্জ গ্রামের জুবেল মিয়া (৩০) ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের মো. জাহেদ আহমেদ (২৪)। এ ঘটনায় জড়িত রাজনগর হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা কবির নামে একজন পলাতক রয়েছে। নির্যাতিত ওই ছাত্রী কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের বড়চেগ এলাকার স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী এবং মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মুঠোফোনে অভিযুক্ত জাহেদের সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কে গত ১২ই সেপ্টেম্বর বিকালে ওই ছাত্রীকে তার বাড়ি থেকে বের করে মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট এলাকায় নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে রাজনগরের বাহাদুরগঞ্জে আসামি জুবেল মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাতভর তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। ?এরপর ১৩ থেকে ১৭ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্ত জাহেদের বাড়িতে আটকে রেখেও মেয়েটির ওপর নির্যাতন চালানো হয়। টানা নির্যাতনে ছাত্রীটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ই সেপ্টেম্বর সকালে আসামিরা তাকে কমলগঞ্জের রহিমপুরের হামিদিয়া চা বাগানের রাবার বাগানের সড়কের পাশে তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতিত মাদ্রাসাছাত্রীর বাবা কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযোগের ২০ ঘণ্টার মধ্যে তিন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ। কমলগঞ্জ থানার ওসি কমর উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পলাতক আসামি কবিরকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।