হত্যার পর জঙ্গলে পুঁতে রাখা শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার

মায়ের কথিত প্রেমিক গ্রেপ্তার

হত্যার পর জঙ্গলে পুঁতে রাখা শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

দিনাজপুরে অপহরণ করে হত্যার পর জঙ্গলে পুতে রাখা চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে মায়ের পরকীয়া প্রেমিক রিপন টুডু (৩৫)কে গ্রেপ্তারের পর তার দেখানো স্থান থেকেই মঙ্গলবার ভোরে শিশুর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে সোমবার রাতে রিপন টুডুকে গ্রেপ্তারের পর থেকে রাত-ভোর অভিযান চালানো হয়। দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুর জামতলী এলাকায় শিশু হত্যার ঘটনা ঘটে। কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান বলেন, আসামির দেয়া স্বীকারোক্তি ও দেখানো স্থানে সোমবার রাত থেকে অভিযান চালানো হয়। পরে মঙ্গলবার ভোরে সেখান থেকে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় রুহির মহদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ ঘটনায় বিস্তারিত ব্রিফিং করতে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিং আহ্বান করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, নশিপুর গ্রামের জমসেদ আলীর মেয়ে জিন্নাতুনের (১৯) সঙ্গে একই এলাকার মৃত নেপাল টুডুর ছেলে রিপন টুডুর সম্পর্ক ছিল। এর আগে জিন্নাতুনের অন্যত্র বিয়ে হয়েছিল। ওই সংসারে রাকিবা আক্তার রুহি নামে চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। ছয় মাস আগে জিন্নাতুন রিপনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং মেয়েকে নিয়ে তার বাড়িতে বসবাস করছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। ঘটনার তিন দিন আগে জিন্নাতুন কোতোয়ালি থানায় রিপনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে তিনি দাবি করেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রিপন তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। গত ৫ই জুন বিকালে তার ৪ বছরের মেয়ে রুহিকে হত্যা করে অজ্ঞাত স্থানে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, শনিবার রাত থেকে জিন্নাতুন ও রিপন দু’জনই নিখোঁজ ছিলেন। তাদের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে রোববার দুপুরে স্থানীয়রা রিপনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। পরে তার মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্র মহাসড়কে এনে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শিশু রুহিকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে।