বিশ্বের প্রথম রোবট বনাম মানুষের লড়াই

বিশ্বের প্রথম রোবট বনাম মানুষের লড়াই

ফন্ট সাইজ:

রোবট বানায় মানুষ। মানুষকে সাহায্য করার জন্যই রোবটের সৃষ্টি। কিন্তু এই রোবটই যদি মানুষের সঙ্গে লড়াই শুরু করে? সম্প্রতি বিশ্বব্যাপি এআই ও রোবট নিয়ে নানাবিধ উদ্বেগে ছড়িয়েছে। আর এমন এক সময়েই কিনা রোবটের সঙ্গে মানুষের লড়াইয়ের আয়োজন করেছে যুক্তরাষ্ট্র! মানবসদৃশ ৬ ফুট উচ্চতার এক রোবটের সঙ্গে লড়াইয়ে নামেন মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার ফ্রাঙ্কি লাপেন্না। সান ফ্রান্সিসকোতে একটি খাঁচাবদ্ধ স্টেজে রোবট ও তার লড়াই হয়। আরইকে (রোবট ইন্টারটেইনমেন্ট কমব্যাট) এই লড়াইয়ের আয়োজন করে।এতে চীনের শেনজেনভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ইঞ্জিনএআই’-এর তৈরি ‘টি-৮০০’ মডেলের একটি পূর্ণাঙ্গ হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহার করা হয়। লড়াইয়ে আহত হন ল্যাপেন্ন। আইআরকে এই লড়াইকে বিশ্বের প্রথম বড় পর্যায়ের রিং ফাইট বলেছেন। এ খবর প্রকাশ করেছে প্রযুক্তিবিষয়ক পোর্টাল গ্যাজেট রিভিউ।

লড়াই চলাকালে ঠিক কী ঘটেছিল

ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, লড়াইয়ের শুরুতে লাপেন্না রোবটটির সহনশীলতা পরীক্ষা করতে বেশ কয়েকটি ঘুষি মারেন। কিন্তু এর পরপরই রোবটটির শরীর থেকে ধেয়ে আসা তীব্র লাথি বা সরাসরি আঘাতের ধাক্কায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। লড়াইয়ের ইতি সেখানেই। বিভিন্ন তথ্যানুযায়ী, রোবটের শক্ত ধাতব কাঠামোতে আঘাত করতে গিয়ে বা পাল্টা ধাক্কায় লাপেন্নার হাত/কবজিতে মারাত্মক চোট লাগে। আয়োজক সংস্থাটি দাবি করেছিল—মানুষটি লড়াইয়ে জিতেছে, তবে মেঝের ওপর ব্যথায় কাতরাতে থাকা লাপেন্নার ভিডিও চিত্র ভিন্ন বাস্তবতার প্রমাণ দেয়।

স্বয়ংক্রিয় কৃত্রিম মেধা নয়, পেছনে ছিল মানুষের নিয়ন্ত্রণ

রোবটটি কোনো স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তে আঘাত করেনি। মঞ্চের পেছন থেকে একজন মানুষ ভার্চুয়াল রিয়ালিটি হেডসেট ও রিমোট কন্ট্রোলারের মাধ্যমে রোবটটির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। রোবটের নিজস্ব প্রযুক্তি শুধু ভারসাম্য বজায় রাখার কাজটি করেছে। তবে হার্ডওয়্যার হিসেবে এটি কোনো খেলনা নয়। প্রায় ১ দশমিক ৭৩ থেকে ১ দশমিক ৮৩ মিটার উচ্চতার এই রোবটটির ওজন ৭৫ থেকে ৮৫ কেজি। এর বিভিন্ন সংযোগস্থলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণন শক্তি বা বল একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে অনায়াসে ফেলে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।
নিরাপত্তা কাঠামোর অভাব ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
একটি খাঁচার ভেতর রোবটের মুখোমুখি সরাসরি মানবদেহকে নামিয়ে দেয়ার ঘটনাটি বিনোদন ও নিরাপত্তার মধ্যকার ফারাককে প্রকাশ্যে এনেছে। এই আয়োজনের কোনো আনুষ্ঠানিক সুরক্ষা নীতিমালা বা আহত হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, শিল্প কারখানার বাইরে এমন শারীরিক দ্বৈরথ বা সরাসরি সংস্পর্শের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো আইনি কাঠামো নেই। এই লড়াই স্পষ্ট করেছে যে, আধুনিক হিউম্যানয়েড রোবটগুলো এখন একজন মানুষের সঙ্গে শারীরিকভাবে পাল্লা দেয়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী ও গতিশীল। ফলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের কাছাকাছি রোবটের কাজ করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি এখন বড় এক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।