এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদকের বড় সম্ভাবনা ছিল নারী ক্রিকেটে। হাংজু এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানকে হারিয়েই ব্রোঞ্জ জিতেছিল জ্যোতিরা। এবার সেই পাকিস্তানের কাছেই হেরে পদকহীন থাকতে হলো বাংলাদেশকে। নাগোয়ার কোরোগি স্পোর্টস পার্কে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।
র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবিধায় চীনকে টপকে সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ চারে ভারতের কাছে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে যায় জ্যোতিরা। এরপর ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে সামনে আসে পাকিস্তান। হাংজুতে যাদের হারিয়ে পদক জিতেছিল বাংলাদেশ, এবার তাদের কাছেই থামতে হলো।
পাকিস্তানের ১৪৫ রানের জবাবে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৪৬ রান খুব বড় লক্ষ্য নয়। এই টুর্নামেন্টেই শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭৭ রানের বেশি রান তাড়া করে জয় পেয়েছে। একই ভেন্যুতে নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে এশিয়ান গেমসে প্রথম সেঞ্চুরিও করেছেন ভারতের শেফালি ভার্মা। অন্য দলের ব্যাটাররা যেখানে রান করছেন, সেখানে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে যেন সেই ছন্দই নেই।
১৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ২০ রানেই ফিরে যান তিন ব্যাটার। ভুল শট নির্বাচনে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে দল। সেখান থেকে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও শারমিন আক্তার সুপ্তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। দুজনের জুটিতে আসে ৪৭ রান। কিন্তু প্রয়োজনীয় রানরেট ক্রমেই বাড়তে থাকায় চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
চাপ কাটাতে বড় শট খেলতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আউট হন জ্যোতি। তার বিদায়ের পর বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাও কার্যত শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১১৪ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে ফিল্ডিংও। পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুতেই ফাতিমা সানা ক্যাচ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। জীবন পেয়ে সানা পরে খেলেন ঝড়ো ইনিংস। বিপরীতে পাকিস্তানের ফিল্ডাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিয়েছেন দুটি দুর্দান্ত ক্যাচ।
বল হাতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে বড় ধস নামান পাকিস্তানি স্পিনার উম্মে হানি। চার ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে তিনি নেন তিন উইকেট। তার ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
