কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনের প্রতিবাদে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন জেলার সাংবাদিকরা। আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের সময় পুলিশ বাধা দিলে তা উপেক্ষা করে ভেতরে প্রবেশ করেন সাংবাদিকরা। পরে কুষ্টিয়া জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনের বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট বিচারককে কুষ্টিয়া থেকে প্রত্যাহারের দাবিও তোলেন তারা।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খন্দকার আল মামুন সাগর বলেন, কুমারখালীর বাংলা টিভির সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাস পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অথচ এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানোর পর জামিন দেওয়া হয়েছে। এতে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন অতীতের মতো যা খুশি তাই করবেন, সেটা আর হতে দেওয়া হবে না। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা কোনোভাবেই ছাড় দেব না।
গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সংশ্লিষ্ট বিচারককে কুষ্টিয়া থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আদালত প্রাঙ্গণে আরও বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানোর পর জামিন দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা কথা বললেই আদালত অবমাননার কথা বলা হয়। কিন্তু আদালতে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সেটি নিয়েও তো কথা বলার সুযোগ থাকতে হবে।
এছাড়া সমাবেশে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান কুমার, ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আবু বকরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক হামলার শিকার হলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। হামলার ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
গত শনিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে কুমারখালী পৌরসভার কুন্ডুপাড়া কালীবাড়ী মোড় এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বাংলা টিভির কুমারখালী উপজেলা প্রতিনিধি মাহবুবুল আহসান উল্লাস।
হামলার ঘটনায় ওই দিন বিকেলে সাংবাদিক উল্লাস বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
