ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া তথা এসআইআর নিয়ে বিতর্ক জারি রয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে যা শুরু হয়েছিল এবার ভারতের রাজধানী খোদ দিল্লিতে তা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। দিল্লির খসড়া ভোটার তালিকায় (এসআইআর) সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী এল.কে. আদভানি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়, দিল্লির সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া, সাবেক নির্বাচন কমিশনার এস.এস. সান্ধু, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী এবং সিবিআই অধিকর্তা প্রবীণ সুদের নামে নোটিশ জারি হয়েছে। এই অভাবনীয় কাণ্ড নিয়ে নির্বাচন কমিশন সাফাই দিয়েছে, ভোটার তালিকার সাথে মেলানো সম্ভব হয়নি কিংবা যাদের নথিপত্রে "যৌক্তিক অসঙ্গতি" পাওয়া গেছে, তাদের কাছেই নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। কমিশন জানিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ভোটারকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এবং "যথাযথ কারণ-সহ ব্যাখ্যাযুক্ত ও আপিলযোগ্য আদেশ" জারি না করে তালিকা থেকে কোনো নাম বাদ দেয়া যাবে না। ভিআইপিদের নিয়ে কমিশনের এই বিবৃতি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সোমবার প্রশ্ন তুলেছেন, দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ কর্মসূচি কি ‘ভিআইপি ভোটার’ ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কোনো বিভাজন তৈরি করেছে।
দিল্লির প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, খসড়া ভোটার তালিকায় প্রায় ৯৭ লক্ষ ভোটারের নাম রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ দশমিক ১৩ লক্ষ ভোটারের তথ্য সংগ্রহের ফর্মে অসঙ্গতি থাকায় তাদের নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ৩১ দশমিক ৬৩ লক্ষেরও বেশি নোটিশ জারি করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর নোটিশ কোনো ‘অস্তিত্বের সংকট’ নয় এবং সুপ্রিম কোর্টও বারবার বলেছে যে, এসআইআর-এর কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই নাগরিকত্ব হারানো নয়। তবুও এই প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে—আইআইটি -তে পিএইচডি-র আবেদন আটকে যাওয়া, বহু মানুষের পাসপোর্ট আটকে থাকা থেকে শুরু করে অন্য রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের আটক হওয়ার মতো ঘটনাও এর অন্তর্ভুক্ত।
রবিবার কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ ভোটারদের এই তালিকা থেকে বাদ দেয়ার প্রক্রিয়াটিকে ‘শাহ-প্ররোচিত অপসারণ’ প্রক্রিয়া বলে অভিহিত করে বলেছেন, নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া নাগরিকদের ওপর অত্যধিক বোঝা চাপিয়েছে।
রমেশ পরবর্তীতে সোমবার আরেকটি পোস্টে এসআইআর-এর আরেকটি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘ভারতীয়দের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার পদ্ধতি’ এটি। তথ্যে গরমিলের কারণে যাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছিল, তাদের তালিকায় প্রয়াত অর্থনীতিবিদ বিবেক দেব্রয়ের নাম থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এদিকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, “বিহার থেকে শুরু হওয়া এসাআইআর প্রক্রিয়াটি এখন দিল্লির দরজায় কড়া নাড়ছে। সম্ভবত এখন নীতিনির্ধারকরা বুঝতে পারছেন কেন কংগ্রেস দল শুরু থেকেই এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করে আসছে!”
খাড়গে অভিযোগ করেছেন, “এসআইআর কেবল ভোট চুরি ও গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য বিজেপির ব্যবহৃত কোনো হাতিয়ার নয়—এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া যা এখন এক ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন দানব’-এ পরিণত হয়েছে এবং খোদ তাদের নিজেদের লোককেই বিপদে ফেলছে!”
খাড়গে আরও উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলগুলোর মধ্যে ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রেই আবেদনকারীরা সফল হয়েছেন। এর ফলে ১,১৩,৯৪৩ জন মানুষের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা জমা দিয়েছে, যেখানে বাংলায় এসআইআর-এর মাধ্যমে নাম বাদ দেয়া ও নতুন নাম যুক্ত করার বিষয়ে দায়ের করা প্রায় ৩৭ লক্ষ আপিলের ধীরগতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কংগ্রেস সভাপতি বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে যাদের নাম বাদ দিয়ে ভোট দেয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর ৯৩ শতাংশেই আবেদনকারীরা জয়ী হয়েছেন অর্থাৎ ১,১৩,৯৪৩ জন মানুষ পুনরায় ভোটার তালিকায় স্থান পাচ্ছেন! কী ব্যাপার! কীসের ভিত্তিতে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল?” তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের ঝড়
আদভানি, জয়শঙ্কর, ধনখড়, উপেন্দ্র দ্বিবেদীসহ ভিআইপিরা পেলেন এসআইআরের নোটিশ
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
ভারত
১ ঘন্টা আগে
২১ সেপ্টেম্বর (সোমবার), ২০২৬, ৩ঃ১৪ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
