সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং তাদের নির্বাচনী প্রতীক—'জোড়া ফুল' ফ্রিজ(স্থগিত) করার বিষয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করতে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট সম্মত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন যখন দলের দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে আলাদা নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করে, তার পরেই ১৮ সেপ্টেম্বর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা এবং দলের মূল নাম ও প্রতীক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। এই আবেদনে নির্বাচন কমিশন ও প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীকে বিবাদী পক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর পক্ষে সওয়ালকারী প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতকে জানান যে, দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যখন বিচারাধীন ছিল, ঠিক তখনই নির্বাচন কমিশন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এরপরই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মামলাটি দ্রুত তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বিদ্রোহের জেরে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপরই প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের ওপর নিজেদের দাবি জানায়। নির্বাচন কমিশন বর্তমানে দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের বিষয়ে উভয় গোষ্ঠীর পাল্টাপাল্টি দাবিগুলো খতিয়ে দেখছে।
সিব্বল সোমবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চকে বলেন, “অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছে। জুন মাসে নোটিশ জারি করা হয়েছিল এবং জুলাই মাসে আমরা তার জবাব দিয়েছিলাম। এই প্রক্রিয়া চলাকালীনই প্রতীকটি স্থগিত করে দেওয়া হলো। এসব কী হচ্ছে?”
তবে প্রধান বিচারপতি বলেন, যখন বিষয়টি শুনানির জন্য উঠবে, তখন উভয়পক্ষই তাদের যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ পাবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, “যখনই বিষয়টি তালিকাভুক্ত হবে, তখন দয়া করে এই বিষয়গুলো নিয়ে যুক্তি দেবেন। উভয় পক্ষেরই কিছু বলার থাকবে।”
প্রধান বিচারপতি বলেছেন, “আমরা এই সপ্তাহেই এটি তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করব।”
আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের মূল পরিচিতি স্থগিত করে ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেছিল। ওই আদেশের কয়েক ঘণ্টা পরেই কমিশন দলের দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে আলাদা নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করেছে। এরপরই ১৮ সেপ্টেম্বর মমতা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন।
নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর নাম দিয়েছে “মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস” এবং তাদের “ফুটবল খেলোয়াড়” প্রতীক বরাদ্দ করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে “গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের “খাম”প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলি পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরসহ আসন্ন উপনির্বাচনগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের ২০জন বিদ্রোহী সাংসদ ভারতের স্বল্প-পরিচিত 'ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া'-র সাথে মিশে যান এবং বিজেপি-নেতৃত্বাধীন 'ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স' (এনডিএ)-কে সমর্থন জানান। ৩রা জুন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু তৃণমূলের ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ককে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং যথাক্রমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বিরোধী দলনেতা ও উপ-বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করেন।
নির্বাচনে বিজেপি ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৮টিতে জয়ী হয় এবং তৃণমূলের আসন সংখ্যা কমে ৮০-তে নেমে এসেছিল।
রাজ্যসভার ক্ষেত্রে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা কমে নয়জনে দাঁড়ায়। সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের পদত্যাগ ও বিজেপিতে যোগদানের পর তারা ২৪শে জুলাই পুনরায় উচ্চকক্ষে নির্বাচিত হন। এরপর তৃণমূল কংগ্রেসের চতুর্থ রাজ্যসভা সদস্য অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকও রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
