ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (সিপিএল) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারেও পারলো না মেহেদী হাসান মিরাজের দল। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিলো জ্যামাইকা কিংসম্যান। ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভালে শিমরন হেটমায়ারের অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরিতে গায়ানার দেয়া ২০৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্যও টপকে গেল জ্যামাইকা। আর এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই সিপিএলে নিজের অভিষেক আসর শেষ করলেন টাইগার অলরাউন্ডার মিরাজ।
প্রথমবার সিপিএল খেলতে নেমেই টুর্নামেন্টের শুরুতে দারুণ চমক দেখান মিরাজ। প্রথম তিন ম্যাচেই তুলে নেন ৯ উইকেট। তবে টুর্নামেন্টের আসল সময়ে এসে পথ হারিয়ে ফেলেন তিনি। জ্যামাইকার বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ৪ ওভার বল করে ৪৩ রান খরচ করেও কোনো উইকেটের দেখা পাননি মিরাজ।
মাজ সাদাকাতের বিপক্ষে নিজের প্রথম ওভারে দুটি ছক্কা ও এক চারে ১৮ রান হজম করতে হয় তাকে। যদিও পরের ওভারে দুর্দান্ত কামব্যাক করে মাত্র ২ রান দেন তিনি। তবে ইনিংসের দ্বাদশ ওভারে সাইম আইয়ুবের কাছে আবারও জোড়া ছক্কার মার খান মিরাজ। সব মিলিয়ে শেষ দুই ম্যাচে উইকেটের খরায় ভোগা মিরাজ ব্যাটিংয়ে নামারও সুযোগ পাননি। আসরের শেষ চার ইনিংসে তার মোট রান মাত্র ২১, আর স্ট্রাইক রেট ছিল মোটে ৪৮.৮৩।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২০ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারায় গায়ানা। সেখান থেকে দলকে খাদের কিনারা থেকে তোলেন শেই হোপ ও শিমরন হেটমায়ার। হোপ ৩৩ বলে ৪০ রান করে ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে তাণ্ডব চালান হেটমায়ার। মাত্র ২০ বলে ফিফটি পূর্ণ করা এই বাঁহাতি ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে ৪টি চার ও ৮ ছক্কায় ১০২ রানের অনবদ্য এক শতক হাঁকান। নির্ধারিত ২০ ওভারে গায়ানা তোলে ৪ উইকেটে ২০৬ রান।
রান তাড়ায় নেমে জ্যামাইকাকে বিধ্বংসী শুরু এনে দেন তরুণ পাকিস্তানি ব্যাটার মাজ সাদাকাত। তিনি ১৭ বলে ৫টি চার ও ৩ ছক্কায় করেন ৪১ রান। এরপর কেসি কার্টির ৪০ বলে ৫৬ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস দলকে জয়ের পথে রাখে। তবে ম্যাচের আসল মোড় ঘুরিয়ে দেন রভম্যান পাওয়েল। শেষ দিকে মাত্র ১৭ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ঝোড়ো ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে দুই বল বাকি থাকতেই ফাইনালে পৌঁছে দেন তিনি।
প্রাথমিক পর্বে দুই দেখায় জ্যামাইকাকে হারালেও এই হারের ফলে টানা দুই কোয়ালিফায়ার হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো গায়ানাকে। আগামী সোমবার ফাইনালে জ্যামাইকার প্রতিপক্ষ অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স।
