বিয়েতে এক পদ, বিদেশ সফর ও সরকারি নৈশভোজ নয়

পাকিস্তানে কৃচ্ছ্রসাধনে নতুন নীতি

বিয়েতে এক পদ, বিদেশ সফর ও সরকারি নৈশভোজ নয়

ফন্ট সাইজ:

ইরান, ইউক্রেন, ইয়েমেন সহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তাপ সারাবিশ্বে। জ্বালানির বাজার অস্থিতিশীল। অর্থনীতির ওপর বাড়ছে চাপ। এমন অবস্থায় কৃচ্ছ্রসাধনের বেশ কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। বিশেষ করে তার মধ্যে বিয়ে বাড়িতে এক পদের বেশি রান্না করা যাবে না- এটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। সরকারি গাড়ির জন্য জ্বালানি বরাদ্দ কমানো, সরকারি কাজে নতুন গাড়ি কেনা নিষিদ্ধ করা, কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারি নৈশভোজ বন্ধের সিদ্ধান্তও রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য প্রিন্ট।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তিন মাসের জন্য সরকারি গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ ৫০ শতাংশ কমানো হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পুরো সময় কর্মী সংশ্লিষ্ট নয় এমন ব্যয়ের বাজেট ৫ শতাংশ কমানো হবে। আইটি সরঞ্জাম কেনা ছাড়া সব ধরনের টেকসই পণ্য কেনা পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবে। তিন মাসের জন্য বিদেশ সফর ও ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এমনকি বাধ্যতামূলক সফরের ক্ষেত্রেও। তবে বৃত্তির ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
এ বছরে দ্বিতীয় দফায় নেয়া এসব কৃচ্ছ্রসাধনমূলক বিধিনিষেধের আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম ছাড়া অন্যান্য টেকসই পণ্য সরকারিভাবে কেনাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সম্ভব হলে বৈঠকের জন্য কর্মকর্তাদের টেলিকনফারেন্স ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জ্বালানি ব্যবহার ও সরকারি ব্যয় কমানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশজুড়ে বিয়েসংক্রান্ত সব অনুষ্ঠান ও আয়োজনে শুধু একটি পদ পরিবেশন করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
এর আগে মার্চ মাসেও ইসলামাবাদ একই ধরনের কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ নেয়। সে সময় জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার দুই সপ্তাহের জন্য সাময়িকভাবে স্কুল বন্ধ রাখে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে জ্বালানি ব্যবহার কমায়। কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে উৎসাহিত করে। সর্বশেষ পদক্ষেপ নেয়া হলো এমন সময়ে, যখন পাকিস্তান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মুখে। পশ্চিম এশিয়ার বিস্তৃত সংঘাতের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে পেট্রল ও ডিজেলের দামও বেড়েছে।
মঙ্গলবার পাকিস্তানে পেট্রলের দাম প্রতি লিটারে ৪.১০ পাকিস্তানি রুপি এবং হাইস্পিড ডিজেলের দাম ৬.৪১ রুপি বাড়ানো হয়েছে। এতে পেট্রলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৩৮৪.৩৪ রুপি, আর ডিজেলের দাম হয়েছে ৪১৫.৮৩ রুপি। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক জানিয়েছেন, সরকারের জ্বালানি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে এই মূল্যবৃদ্ধির একটি অংশের চাপ ভোক্তাদের ওপর থেকে কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নীতির আওতায় মোটরসাইকেল, রিকশা ও ছোট গাড়ির মালিকদের প্রতি লিটার জ্বালানিতে ১০০ পাকিস্তানি রুপি, অর্থাৎ প্রায় ৩৬ পয়সা সমপরিমাণ ভর্তুকি দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে মাসিক ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সীমা থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কার পাশাপাশি ইরান সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও লোহিত সাগরে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এতে আঞ্চলিক জ্বালানি বাজারে আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল পাকিস্তানের জন্য এসব সংকট এক কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে জ্বালানির দাম বাড়ছে, অন্যদিকে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব চাপ মোকাবিলায় জ্বালানি ব্যবহার কমানোই সরকারের সর্বশেষ কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপগুলোর অন্যতম লক্ষ্য।