ব্যালন ডি’অর নিয়ে বিচলিত নন কেইন

ব্যালন ডি’অর নিয়ে বিচলিত নন কেইন

ফন্ট সাইজ:

ব্যালন ডি’অর নিয়ে কথার লড়াই শুরু হয়ে গেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামালের পর এবার নিজের ভিন্ন অবস্থানের কথা স্পষ্ট করলেন বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন। যেখানে অন্য প্রার্থীরা নিজেদের পক্ষে বেশ সরব, সেখানে নিজের ঢোল নিজে পেটাতে কোনো আগ্রহ নেই এই ইংলিশ তারকার । তবে গত মৌসুমের অবিশ্বাস্য সাফল্যের পর ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তিনি যে জোড়ালোভাবে আছেন, তা বলাই বাহুল্য।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন আরও ধারালো হয়ে উঠছেন ৩৩ বছর বয়সী কেইন। বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের জার্সিতে গত মৌসুমে ৬৫ ম্যাচে অবিশ্বাস্য ৭৩ গোল করেছেন তিনি। ২০১১-১২ মৌসুমে লিওনেল মেসির ৮২ গোলের রেকর্ডের পর গত ১৪ বছরে এটিই এক মৌসুমে কারো সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা। বায়ার্নের হয়ে জার্মান বুন্ডেসলিগা, জার্মান কাপ ও জার্মান সুপার কাপ জেতেন তিনি। একইসঙ্গে গত জুলাইয়ে শেষ হওয়া বিশ্বকাপে ৬ গোল করে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যান কেইন। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের পর ইংলিশদের এটিই সেরা সাফল্য।

এমন পারফরম্যান্সের পরও ব্যালন ডি’র নিয়ে নিজের উদাসীনতার কথা জানিয়ে স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কাকে কেইন বলেন, ‘নিজের সম্পর্কে খুব বেশি কথা বলতে কখনোই পছন্দ করি না আমি। শুধু এটুকুই বলব, গত মৌসুমটি ব্যক্তিগতভাবে এবং দলের জন্য অবিশ্বাস্য ছিল। নিঃসন্দেহে আমার জীবনের সেরা মৌসুম ছিল এটি।’

ব্যালন ডি’অর জয় প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এটি নিয়ে আমি খুবই গর্বিত... তবে ব্যালন ডি’অর তো আমার হাতে নেই। যারা ভোট দেন, তাদের ওপর এটা নির্ভর করে। আমার চোখে গত মৌসুম এখন অতীত। এখন আমি নতুন মৌসুমে মনোযোগ দিচ্ছি এবং আরও কী কী অর্জন করতে পারি, তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।’

এদিকে এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামাল নিজেদের দাবি জোরালো করতে নানা মন্তব্য করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের হয়ে কোনো ট্রফি জিততে না পারলেও এমবাপ্পে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকে সামনে এনে নিজেকেই সবচেয়ে যোগ্য ভাবছেন। অন্যদিকে, বার্সেলোনার লীগ জয় ও স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে অবদান রেখে ইয়ামাল নিজেকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করছেন। তবে কেইনের মতে, মাঠের পারফরম্যান্সই সব বলে দেয়।
এবারের ব্যালন ডি’অর আসরটি কেইনের জন্য আরও বিশেষ একটি উপলক্ষ। কেননা, এই প্রথম পুরস্কার বিতরণের মূল অনুষ্ঠানটি বসছে তার নিজের শহর লন্ডনে। এ বিষয়ে কেইনের প্রতিক্রিয়া, ‘অনেকে আমাকে এই কথা বলেছেন। হয়তো এটি ভালো লক্ষণ। এটি আমার নিজের শহর হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি বিশেষ হয়ে উঠেছে। তাই হ্যাঁ, এ বছর সেখানে এটি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়াটা এক অদ্ভুত অনুভূতি। দেখতে হবে শেষ পর্যন্ত কী হয়।’

এই বয়সেও এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পেছনের রহস্য খুলে বলতে গিয়ে নিজের ব্যক্তিগত ক্রীড়া চিকিৎসক আলেহান্দ্রো এলোরিয়েগার অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন কেইন। সাড়ে ছয় বছর ধরে তার সঙ্গে কাজ করার কথা উল্লেখ করে কেইন বলেন, ‘আমার বর্তমান ফর্মে আলেহান্দ্রোর ভূমিকা অনেক বেশি। পর্দার আড়ালে আমরা প্রচুর কাজ করি... অনেকের ধারণা, এ বয়সে পারফরম্যান্স সাধারণত কমতে থাকে। তবে আমার ক্ষেত্রে প্রায় উল্টো ঘটনাই ঘটেছে।’

সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত অর্জন বা ব্যালন ডি’অরের লোভের চেয়ে মাঠের ফুটবল উপভোগ করাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন হ্যারি কেইন। গোলের উদযাপন প্রসঙ্গে তার সরল স্বীকারোক্তি, ‘কখনোই না (ক্লান্ত লাগে না)! গোল করার অনুভূতিটাই সবচেয়ে দারুণ! এটি এক অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চ তৈরি করে। মনের ভেতর এক বিশাল স্বস্তির ভাবও আসে। আমি জানি, খেলা ছেড়ে দেয়ার পর এই অনুভূতিটা আমি ভীষণ মিস করবো।’