পাঁচ গোলে হারে প্রস্তুতির ঘাটতি দেখছেন পিটার

পাঁচ গোলে হারে প্রস্তুতির ঘাটতি দেখছেন পিটার

ফন্ট সাইজ:

এশিয়ান গেমসের আগে দলকে নিয়ে জার্মানিতে যেতে চেয়েছিলেন কোচ গেরহার্ড পিটার। সেখানে তিন সপ্তাহের কন্ডিশনিং ক্যাম্প করার পাশাপাশি ১৬টি ম্যাচ খেলানোর পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভিসা জটিলতায় জার্মানি যাওয়া হয়নি বাংলাদেশ হকি দলের। পরে চীনে সাত দিনের ক্যাম্প করলেও তা এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরের প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচ প্র্যাকটিসের এই ঘাটতির খেসারতই দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে পাঁচ গোলের হারে দিতে হয়েছে বলে মনে করেন জার্মান কোচ গেরহার্ড পিটার।

আজ নাগোয়া থেকে প্রায় ৩৯ কিলোমিটার দূরের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন হকি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হেরে এশিয়ান গেমস শুরু করেছে বাংলাদেশ পুরুষ হকি দল। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে দাঁড়িয়ে পিটার বলেন, প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে ম্যাচে ছোট ছোট ভুল করেছে তার শিষ্যরা। আর সেই ভুল থেকেই গোল হজম করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে মাত্র পাঁচ ধাপ এগিয়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম কোয়ার্টারে অবশ্য ভালোই লড়াই করেছে জিমি-রোমানরা। বাংলাদেশের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি কোরিয়া। কিন্তু সংক্ষিপ্ত বিরতির পর দ্বিতীয় কোয়ার্টারেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ তৈরি করে তিন গোলের লিড নেয় বিশ্বের ২৩তম দলটি।

তৃতীয় ও চতুর্থ কোয়ার্টারে আরও একটি করে গোল করে ব্যবধান বাড়ায় কোরিয়া। শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলের বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় কোয়ার্টারে বাংলাদেশের সামনে গোল করার দুটি সহজ সুযোগ এসেছিল। কিন্তু পুস্কর খীসা মিমো ও দ্বীন ইসলাম ইমন সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। পেনাল্টি কর্নার থেকেও গোল আদায় করতে ব্যর্থ বাংলাদেশ। এ কাজে বিশেষজ্ঞ আমিরুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলামদের একাধিক পেনাল্টি কর্নারের সুযোগও কাজে লাগেনি।

শেষ কোয়ার্টারে কিছুটা খোলস ছেড়ে আক্রমণে ওঠে বাংলাদেশ। কিন্তু জিমি, মিমোরা কোরিয়ার গোলমুখ খুলতে পারেননি। বিশেষ করে পেনাল্টি কর্নারের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার হতাশাই শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে দেখা দেয়।

ম্যাচ শেষে অবশ্য পাঁচ গোলের হারেও নিজের লক্ষ্যে অটুট থাকার কথা জানিয়েছেন পিটার। তিনি বলেন, ‘এখানে হারলেও আমি আমার লক্ষ্য থেকে সরে যাইনি। আমরা পাঁচ-ছয় নম্বরে থাকতে চাই। তাই জাপান ম্যাচের আগে এটাকে প্রস্তুতি হিসেবে দেখছি।’

জার্মানিতে ক্যাম্প করতে না পারার বিষয়টিও সামনে আনেন বাংলাদেশের কোচ। তাঁর ভাষায়, ‘এখানে কিন্তু আমরা লড়াই করেছি। ম্যাচে পাঁচ-ছয়টি গোল করার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু ম্যাচ প্র্যাকটিসের ঘাটতির কারণে ছেলেরা সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। গোলগুলোও ছোট ছোট ভুলের কারণেই হজম করেছি। তবে এসব ভুলে আমি সামনের ম্যাচের দিকে তাকাতে চাই।’
নাগোয়া থেকে গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন হকি স্টেডিয়াম বেশ দূরে। যাতায়াতের পথও সহজ নয়। নাগোয়ার পোর্ট মেসে নাগোয়া এক্সিবিশন সেন্টারের মিডিয়া সেন্টার থেকে হকি স্টেডিয়ামে যাওয়ার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো মিডিয়া শাটলের ব্যবস্থা না থাকায় বাংলাদেশ-কোরিয়া ম্যাচ কাভার করতে আসা সাংবাদিকদেরও বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
তবে সেই ভোগান্তির পরও বাংলাদেশকে স্বস্তি দিতে পারেননি জিমি-রোমানরা। পাঁচ গোলের হার দিয়ে শুরু হয়েছে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পুরুষ হকি দলের যাত্রা।
গিফুতে এখন বাংলাদেশের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক জাপানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।