জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ভারতে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। ওবায়দুল কাদেরসহ মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাত আসামির রায়ের আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর ভারতের সঙ্গে যথাযথ প্রক্রিয়ায় যোগাযোগ করা হবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অন্য ছয়জন হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
সাজাপ্রাপ্ত এসব আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী কাজ চলছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চিঠিপত্র আদান-প্রদান হচ্ছে।
রায়ের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রায়ের আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর ভারতের সঙ্গে যথাযথ প্রক্রিয়ায় যোগাযোগ করা হবে। আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনগত ব্যবস্থা নেবে সরকার।
ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে পাঠানো চিঠির জবাব পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। এখনো ভারতের কাছ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। তবে ভারতের দিক থেকেও একটি আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। তারা সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশে তাদের ফিরিয়ে আনা পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যক্রম চলবে।
এদিকে ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগে এখনো নয়াদিল্লির সম্মতি বা অ্যাগ্রিমো না পাওয়ার বিষয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ বা ভারত সরকারের কাছ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা বক্তব্য না আসা পর্যন্ত এসব খবরকে ভিত্তি করে প্রতিবেদন করা ঠিক হবে না। দুই দেশের সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত আসাদ আলম সিয়ামের অ্যাগ্রিমো নিয়ে প্রকাশিত খবর আমলে না নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
