মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের পক্ষে নিজেই লড়তে চান সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু। বুধবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে গিয়ে এই ইচ্ছার কথা জানান শামসুল হক টুকুর ছেলে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক)। তিনি জানান, তার বাবা কোনো আইনজীবী নিয়োগ না করে নিজেই ট্রাইব্যুনালে আত্মপক্ষ সমর্থন (ডিফেন্স) করতে আগ্রহী। এজন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ১৭ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মামলার নথিপত্র (ডকুমেন্টস) চেয়ে মৌখিক আবেদন করেন তিনি।
আবেদনের প্রেক্ষিতে চিফ প্রসিকিউটর শাপলা চত্বরের মামলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিনকে ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন মানবজমিনকে জানান, শামসুল হক টুকু নিজেও একজন পেশায় আইনজীবী। তার ছেলে এসে মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ অফিসারকে জানানো হয়েছে যেন মামলার আগের রেকর্ড ও ওকালতনামা যাচাই করা হয়। যদি তার পক্ষে অন্য কোনো আইনজীবী নিয়োগের তথ্য না থাকে, তবে তিনি আইনজীবী হিসেবে নিজেই যাবতীয় নথিপত্র পেতে পারেন। তবে পূর্বে কোনো আইনজীবী ওকালতনামা দিয়ে থাকলে, নিয়ম অনুযায়ী সেই আইনজীবীর মাধ্যমেই নথিপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এই মামলায় সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ১৭ নম্বর ধারায় বিচার চলাকালে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তির সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট কিছু অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—অভিযোগের বিষয়ে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য বা ব্যাখ্যা প্রদানের সুযোগ, ট্রাইব্যুনালে নিজে আত্মপক্ষ সমর্থন করা কিংবা আইনজীবীর আইনি সহায়তা গ্রহণের স্বাধীনতা, এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে প্রমাণ/সাক্ষ্য উপস্থাপন ও প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের জেরা করার পূর্ণ অধিকার।
