ঢাকা কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালুচরে চাঁদা না দেয়ায় বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় থানায় মামলায় না নেয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। সোমবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আউয়াল হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, আমাদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা চায় স্থানীয় একটি চক্র। ওই চাঁদার টাকা না দেয়ায় মোহাম্মদপুরসহ আশেপাশের এলাকা থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে গত ১১ সেপ্টেম্বর সকালে আমাদের বাড়ি-ঘরে হামলা করা হয়। হামলার সময়ে সকল রাস্তা সব বন্ধ করে দেয় সন্ত্রাসীরা, যাতে কেউ আমাদের বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। তিনি বলেন, আমাদের বাড়িতে তিনজন নারী ছাড়া তখন আর কেউ ছিল না। এই সুযোগে তারা বাড়িতে ঢুকে প্রথমেই সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং ইন্টারনেটের লাইন কেটে দেয়। এরপর পুরো বাড়িতে তাণ্ডপ চালায়। লুটপাট করে। আমরা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ আসে কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পর তারা আবারও হামলা চালায়। এমনকি ঘরের আসবাবপত্র পর্যন্ত নিয়ে গেছে।
পুকুরপাড়ের কলাগাছ, আমগাছ কেটে এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি নষ্ট করে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। এছাড়াও পুকুর থেকে প্রায় ২ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে নিয়ে গেছে। ভাঙচুরের খবর পেয়ে আমরা ও আশপাশের লোকজন যখন ঘটনাস্থলে যায় তখন তারা আমাদেরকেও প্রাণনাশেরসহ ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। এর আগে এই একই সম্পত্তি আদালতে ফৌজদারি ১৪৫ ধারায় পিটিশন মামলা (নং-১৯৪/২৬) পর্যন্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তারে মূল টার্গেট আমাদের পুকুর দখল করা।
সংবাদ সম্মেলনে মোমিন তালুকদার নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, গত শুক্রবার সকাল ৯ টায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী দল এসে এক বাড়ির উপর হামলা করে। বাড়ির উপরে হামলা করে এবং পুরা টিনশেড বিল্ডিংটা ভাঙচুর করে। ভাঙচুর করার পর আসবাবপত্রসহ যা ছিল মালামাল, সম্পূর্ণ তারা লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
আছিয়া নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, আমি হযরতপুরের মেয়ে। আমার বাপের বাড়ি বালুচর শাহবাড়ি। কেনো এরা এরকম করছে? কীভাবে আমাদের সাথে এরকম অত্যাচার করছে? আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু থানা মামলা নিচ্ছে না, কোনো আমলেও নিচ্ছে না। এভাবে হলে আমরা কোথায় যাবো? কার কাছে যাবো? বাড়ি ঘর ভেঙে দেয়ায় বর্তমানে আমরা অসহায় ভাবে দিন কাটাচ্ছি। তিনি বলেন, ওরা ২০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে, কই থেকে দিবে আমার ভাইয়েরা? আমার ভাইয়েরা থাকে প্রবাসে। তারা রাজনীতি করেন না। সারাজীবন বিদেশে থেকেছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার দিলাম। তিনি যেন এবিষয়ে আমাদের পাশে দাঁড়ায়।
বিষয়টি নিয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল কুদ্দুস বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই, কোন ঘটনা মনে পড়ছে না। চাঁদাবাজি ও বাড়িঘর ভাঙচুরের বিষয়ে থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি খোঁজ খবর নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো।
