পূর্ণাঙ্গ রায় না হওয়ায় আদেশ দেননি চেম্বার আদালত, কর আদায় স্থগিত এনবিআরের

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৭ কোটি টাকা করের রায়

পূর্ণাঙ্গ রায় না হওয়ায় আদেশ দেননি চেম্বার আদালত, কর আদায় স্থগিত এনবিআরের

ফন্ট সাইজ:

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ কল্যাণ’কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা প্রায় ৬৬৭ কোটি টাকা কর পরিশোধে হাইকোর্টের দেয়া রায়ে আপাতত কোনো হস্তক্ষেপ করেননি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত না হওয়ায় চেম্বার আদালত কোনো আদেশ দেননি। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ ও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এনবিআর এ কর আদায়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে না বলে আদালতকে আশ্বস্ত করেছে।

সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের আদালতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দেন। ওই মৌখিক রায় স্থগিত চেয়ে সোমবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ।

শুনানি শেষে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এনবিআরের অতিরিক্ত কর দাবি অবৈধ ঘোষণার জন্য গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে দুটি রিট করা হয়েছিল, যা গত ১০ তারিখে হাইকোর্টে নামঞ্জুর হয়। হাইকোর্ট সেদিন মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত জানালেও পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশ হয়নি। রায়ের কপি না থাকায় আমরা নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে পারছি না। তাই মৌখিক আদেশের ভিত্তিতে এনবিআর যেন কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারে, সেজন্য আমরা চেম্বার আদালতে স্থগিতাদেশ চেয়েছিলাম।’

তিনি আরও জানান, ‘মাননীয় চেম্বার আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, যেহেতু পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি, তাই এ পর্যায়ে আদালত এতে হস্তক্ষেপ করবেন না। রায় প্রকাশের পর তা দেখে আদালত বিবেচনা করবেন।’

আইনজীবী জানান, শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষ ও এনবিআরের প্রতিনিধিরা আদালতকে নিশ্চিত করেছেন যে তারা আপাতত কর আদায়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। আদালত তখন মন্তব্য করেন, আদালতের মৌখিক পর্যবেক্ষণ বা নির্দেশনাও একটি আদেশের মতো। ফলে আপিল দায়েরের আগ পর্যন্ত কর আদায়ের কার্যক্রম বন্ধ থাকছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর কর সংক্রান্ত দুটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে এনবিআর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ করলে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে নতুন করে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট হাইকোর্টের আরেকটি দ্বৈত বেঞ্চ মামলাটির শুনানি শেষে মৌখিক রায় দিলেও তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সর্বশেষ পুনঃশুনানি শেষে হাইকোর্ট এনবিআরের পক্ষে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।